দুই বিঘা জমির ধান কেটে দিল পাবনা পৌর ছাত্রলীগ

পাবনা প্রতিনিধি:

করোনায় যেন থমকে গেছে সবকিছু। দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। এবার সেই প্রভাবে দিশেহারা মাঠের কৃষক। শ্রমিকের অভাবে মাঠের পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হতে বসেছে। করোনায় মিলছে না শ্রমিক, তাই কাটাও হচ্ছে না ধান।

এমন বাস্তবতায় পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের এক কৃষকের দুই বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শ্রমিকের অভাবে যেখানে ধান কাটতে পারছিলেন না কৃষক ঝন্টু খান। ঠিক তখন বিনা খরচে ধান কাটা হওয়ায় খুশি তিনি।

পাবনা পৌর ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ১৬ জন নেতাকর্মী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল গ্রামের মৃত নঈমুদ্দিন খানের ছেলে কৃষক ঝন্টু খানের জমিতে গিয়ে সকাল নয়টা থেকে ধান কাটা শুরু করেন। এতে নেতৃত্ব দেন পাবনা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী আতিকুর রহমান তুষার ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খান। দুপুর ২টা পর্যন্ত ধান কেটে আঁটি বেঁধে মাথায় করে ওই কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেন তারা। জমির পাকা ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানিয়েছেন কৃষক ঝন্টু খান।

তিনি বলেন, ‘ভুইত ধান পাইকে গেছে, কাটার কামলা (শ্রমিক) পাচ্ছি না। করোলা ভাইরাসের জন্যি কামলারা ধান কাইটপের চাচ্ছে না। এহন আইজক্যা হঠাৎ কইরে দেহি সকালে ছাওয়ালপাল আইসে আমার ভুইর ধান কাইটে দিলো। আমি খুব খুশি। উরা খুব ভাল কাম করিছে।’

পাবনা পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খান বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাখ লাখ মানুষের জন্য রুটি বানিয়েছিল। আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি। দেশের যেকোনো দুর্যোগের সময় ছাত্রলীগ মানুষের পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে।

পাবনা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী আতিকুর রহমান তুষার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে আমরা ধান কাটায় অংশ নিয়েছি। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কৃষক ধান কাটতে শ্রমিক পাচ্ছেন না। জমির ধান সময়মতো কাটতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তারা। কৃষক না বাঁচলে তো মানুষ বাঁচবে না। তাই সবাই মিলে কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।

নিউজনাউ/ এম এইচ/ ২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...