চৌহালীতে ২৬ প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা ৮ আত্মসাৎ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনার দুর্গম চর উমারপুর ইউনিয়নে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে এখন পর্যন্ত যত গুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, এর মধ্যে ২৬ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন বা আংশিক করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে পরিষদের ৮ মেম্বার।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল পদক্ষেপ নেয়ায় কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্র-ছায়ায় নানা রকম মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজে জড়িত মেম্বাররা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্তরে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই দুর্নীতি অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইউনিয়নবাসী।

তখন ইউনিয়ন বাসীর আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলনে হাজী আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে ইউপি আব্দুল মতিন মণ্ডল, আবুল হোসেন মাষ্টার, আব্দুর রোউফ, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় প্রকল্প রাস্তা-ঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসায় বরাদ্ধের টাকায় কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পদক্ষেপ দাবী করে উপস্থিত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে প্রকল্প সমূহের দুর্নীতির তালিকা পত্র তুলে দেয়া হয়।

এতে উল্লেখ করা হয় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পাথরাইলের ছালাম ফকিরের বাড়ী হতে হাপানিয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, পাথরাইল কালামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পে ৭১ জন শ্রমিক বাবদ ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কোন কাজ না করে মেম্বার পরশ আলী পুরো টাকা তুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পাথরাইল এবতেদায়ী মাদ্রাসা উন্নয়নে টিআর প্রকল্পের ৮০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে মেম্বার মনজু সরকার আত্মসাৎ করেছে।

এছাড়া অন্যান্য ২৪টি প্রকল্পে একই ভাবে মহা দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে বলে দাবী করা হয়। তখন বক্তারা বলেন, পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য রাসেদুল হাসান, ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদের, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাকিম, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মজিদ, ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার হেলাল উদ্দিন, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আরফান আলী, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পরশ আলী, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বারমজনু সরকার নিজ নিজ এলাকায় গত কয়েক বছরে ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি হয়ে কাজ না করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

তখন বক্তারা মেম্বারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত পূর্বক শাস্তি দাবি করেন। উমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল তার বক্তব্যে বলেন, আমি এসব কাজের প্রতিবাদ করায় কতিপয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করেছে।

আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই ৮ ইউপি সদস্যর পক্ষ থেকে ১নং ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হাসান মোকলেস বলেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। চেয়ারম্যান ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে তার লোকজন দিয়ে এ মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে।

এদিকে চৌহালি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জানান, উমারপুরে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সহযোগীতায় চরাঞ্চলকে আধুনিকায়নে আমরা দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যারা অনিয়ম করছে তা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...