ঘাটাইলে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাঁই’ বিক্রির ধুম

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল প্রতিনিধি:
বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাছ ধরার ফাঁদ। বর্ষায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটাইলের খাল ও বিলে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। উপজেলার বিভিন্ন নিচু জমিতে বর্ষায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিঠা পানির মাছ, যেমন- কই, দারহিনা, শিং, মাগুর, পুঁঠি, গুতুমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। তাই কদর বেড়েছে মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ বা চাঁইয়ের। ঘাটাইলে এসব উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বেশকিছু পরিবার।

সাগরদিঘী বাজারে মাছ ধরার ফাঁদ বিক্রি করতে আসা লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সামেজ উদ্দিন (৫০) জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি মাছ ধরার এসব সামগ্রী তৈরির কাজে জড়িত আছেন। বর্ষায় এসব মাছ ধরার সামগ্রীর কদরও বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই চাঁই, বুরুন, দোয়ারি, ছোট পার, বড় পারসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করা হয়। বাঁশ, সূতা ও প্লাস্টিকের রশি দিয়ে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়।

উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের বেতুয়াপাড়া গ্রামের লোকমান আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সকল সদস্য মিলে তৈরি করছেন মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ।

তিনি জানান, প্রতিদিন ভোর সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে চাঁই তৈরির কাজ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দম ফেলার সময় নেই কারো।

সাগরদিঘী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে মাছ ধরার নতুন চাঁই নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। চাঁই বিক্রেতা লোকমান হোসেন জানান, ১০০টি চাঁই তৈরি করতে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ হয়, যা বিক্রি করা যায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকায়। এতে প্রায় অর্ধেক টাকা লাভ হয়। উপজেলার সাগরদিঘীতে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে। এ দুই দিনে মাছ শিকারের উপকরণ বিক্রি করা হয়।

সাগরদিঘী রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. রিপন মিয়া নিউজনাউকে বলেন, দোয়ারি বা চাঁই মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই শিল্প এখন হারাতে বসেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা খানম তামান্না নিউজনাউকে জানান, এসব কারিগরদের জন্য সরকার থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও ঘাটাইলে কারিগরদের জন্য সরকার থেকে কোনো ধরনের বরাদ্দ নেই।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...