গোপালগঞ্জে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

শেখ জাবেরুল ইসলাম,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের খাগবাড়ি খালের মুখে বাঁধ দিয়ে একটি প্রভাবশালী পরিবার মাছ চাষ করেছেন।

এতে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। চাষাবাদ, নৌ-চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার দেড়শ পরিবার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রভাবশালী ওই পরিবারের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাখাল চন্দ্র হালদার বলেন, রামশীল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন জয়ধর ও তার ভাই রামশীল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ জয়ধর খাগবাড়ি বিষ্ণু মন্দির সংলগ্ন খাগবাড়ি খাঁলের মুখের কালভার্টের নীচে মাটি, নেট, বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়েছে।

খালের অপর প্রান্তে মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে সাড়ে ৩ শ মিটার খাল দখল করে ৮ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। পানি চলাচল বন্ধ হওয়ায় বৃষ্টিতে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

অনেকের বাড়ি-ঘর, বাড়ির আঙ্গিনার শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। নৌ চলাচল ও পণ্যপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। চাষাবাদে কৃষক খালের পানি ব্যাহার করে জমিতে সেচ দিতে পারছেনা। খালের বাঁধ অপসারণ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। এতে কৃষক খালের পানি ব্যবহার করে ৫ শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করতে পারবে। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিপাবে।

খাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভরত চৌধুরী ( ৬২) বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি খাগবাড়ি বিষ্ণু মন্দিরের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকে একটা খাল ছিলো। খালটি এই গ্রামের পশ্চিম পাশের জলাশয়ে গিয়ে মিশেছে । এই খালে সেচ পাম্প বসিয়ে গ্রামের অনেক কৃষক বোরো মৌসুমে ধান চাষ করতো । বর্ষার মৌসুমে নৌকা চলতো ।

এই গ্রামের ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনোরঞ্জন জয়ধর ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে খালটি দখল করে মাছ চাষ করছে । ওই এলাকার নিরীহ মানুষের ক্ষতি হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। এলাকার কোনো মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা কারণে-অকারণে অত্যাচার নির্যাতন করে ।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সর্বানন্দ মল্লিক বলেন, খাগবাড়ি বিষ্ণু মন্দির থেকে জয়ধর বাড়ি পর্যন্ত ওই খালটি ছিলো, মল্লিক বাড়ি পর্যন্ত নৌকা চলতো। আমরা এই খাল দিয়ে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতাম। এখন খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার ফলে আমারা নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে পারিনা। আমরা বোরো মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচও দিতে পারি না।

কোটালীপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, সরকারি অনুমতি ছাড়া এভাবে মাছ চাষ অবৈধ। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহাসিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি । দুএক দিনে মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...