গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি অব্যাহত রয়েছে। করতোয়া নদী তীরবর্তী এলাকা পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, জ্বালানি, পয়ঃনিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা কবলিত এলাকার পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো একই কারণে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

অপরদিকে সাঘাটার সীমান্তবর্তী যমুনার করাল স্রোতে ও হঠাৎ নদীভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ভেসে গেছে হলদিয়া ইউনিয়নের কালুরপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও কালুরপাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসার ঘর। অনেকেই তাদের বাড়িঘর ভাঙনের শিকার হলে আবার নতুন কোন জেগে ওঠা চরে ঘরগুলি রেখে দিচ্ছেন। আবার অনেকেই পাশেই সাঘাটা ওয়াপদা বাঁধে কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাই করেছেন।

কালুরপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান মাসুদ মন্ডল নিউজনাউকে জানান, ‘বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় কালুরপাড়া থেকে খবর আসে কিছুক্ষণ আগে থেকে স্রোত ও নদীভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর পেয়ে ওই রাতেই নৌকা যোগাড় করে গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ঘরের টিনের বেড়া ও চেয়ার টেবিল পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আর ঘরগুলি পানির সাথে হেলে পড়েছে। এলাকার লোকজন মিলে দুটি ঘরের একটি কোনমতে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই চরের একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাঠদানের ব্যবস্থা কিভাবে করবো তা ভেবে কুল পাচ্ছিনা। সরকারের তরফ থেকে সাহায্যে না করলে শিশুদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে অনেক কষ্টের।’

অপরদিকে গত কয়েক বছরে হলদিয়ার নদী ভাঙনের শিকার শতাধিক পরিবার ঘুড়িদহের চিনির পটল গ্রামে আশ্রয় নেয়। চলতি বন্যায় হঠাৎ পানির তোড়ে চিনিরপটল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও আশ্রিত শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড করে রেখে গেছে। ঘরহারা মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। গরু ছাগল ও পরিবার পরিজন নিয়ে কোনমতে বেচে গেলেও তাদের মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবন করছেন।

এখন পর্যন্ত পানির স্রোতের বেগ কমেনি। আগামী দু-একদিনে আরো শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর হারাবে বলে অনেকেই জানান। কোনভাবেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লাভ হচ্ছে না। কারণ পানির তোড়ে নৌকা দাড়িয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বানভাসি ও পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেহই সাহায্যের হাত বাড়ায়নি বলে তারা আক্ষেপ করেন।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ নিউজনাউকে বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় ৬১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১ লাখ ৩১ হাজার ৩২০ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...