খুলে দেয়া হয়েছে গজলডোবা, তিস্তার পানি প্রবাহের রেকর্ড!

জুয়েল আহমেদ, রংপুর ব্যুরো:
১৫ দিনের ব্যবধানে আবারো ফেঁপে উঠেছে উত্তরের তিস্তা নদী। থই থই পানিতে ভরে গেছে চারদিক। পানিবন্দী হয়েছেন রংপুরের তিন উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ১৫ হাজার মানুষ। গেল বন্যার ধকল যেতে না যেতেই দ্বিতীয় বন্যায় যেন সব কুল হারিয়ে ফেলেছেন নদী তীরবর্তী মানুষগুলো। ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ারা সবে মাত্র ঘরে ফিরলেও আবারো নীড় ছেড়ে ডাঙায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। রাক্ষুসে তিস্তা গিলে খেয়েছে গংগাচড়ায় তিস্তা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের এক হাজার ফুট এলাকা।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান নিউজনাউকে জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টায় ৮ সেন্টিমিটার কমে পানি স্থায়ী থাকে তিন ঘণ্টা। কিন্তু বেলা ১২টায় আবারো পানি বেড়ে যায় ৮ সেন্টিমিটার। বিকাল চারটা পর্যন্ত একই ধারায় নদীতে পানির প্রবাহ থাকলেও সন্ধ্যা ৬টায় হু-হু করে পানি বাড়তে থাকে যা বয়ে যায় বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপরে।

নদীর পানি কমা ও বাড়ার বিষয়ে এই প্রকৌশলী নিউজনাউকে জানিয়েছেন, ভারতের সিকিমসহ উজানের বিভিন্ন জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাদের স্থানীয় নদ-নদীগুলোতে পানি বিপৎসীমার উপরে বয়ে যাচ্ছে। তিস্তায় দু’কুল ছাপিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশে তিস্তার পানি প্রবাহের উৎসমুখ ভারতের গজলডোবার ২৪টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানি আরো বাড়তে পারে শঙ্কায় নদীর গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

এদিকে, পানি বাড়ার সাথেই তলিয়ে গেছে জেলার গংগাচড়া উপজেলার নোহালী, আলোমবিধিতর, কোলকোন্দ, লক্ষিটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৮০ গ্রাম। পানির স্রোতে ভেঙে গেছে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়ার চরের তিস্তার প্রধান বাঁদের ১ হাজার ফুট এলাকা। কাউনিয়ার টেপামধুপুর, বালাপাড়া ও শহীদবাগ ইউনিয়ন ও পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের ১২০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান নিউজনাউকে জানিয়েছেন, গেল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা শেষে তাদের খাদ্য সহায়তা হিসাবে ২৩০ টন চাল ও নগদ সাড়ে ১০ লাখ টাকা বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। চলতি সময়ের বন্যা মোকাবিলায় মজুদ রাখা হয়েছে ৪শ’ টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৮ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ও পশু খাদ্য ক্রয়ে দুই লাখ করে চার লাখ টাকা। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে আরো বরাদ্দ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...