করোনায় চুয়াডাঙ্গার ডেকোরেটর ব্যবসায়ে দুর্দিন

আশরাফুল হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
করোনার কারণে বেশিরভাগ ব্যবসায় মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যে পথে বসার উপক্রম দেখা দিয়েছে ডেকোরেটর ব্যবসায়ীদের। সব ধরনের অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় তাদের এ অবস্থা। ফলে এ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক, কর্মচারী ও বাবুর্চি (পাচক) কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন। প্রায় সব ধরনের ব্যবসা স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও ডেকোরেটর ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। তাই এদের সাহায্যে এগিয়ে আসা জরুরী বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তা না হলে এ  শিল্পটি ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।

সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি বড় অনুষ্ঠান সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে ডেকোরেটর ব্যবসায়ীদের সহায়তার প্রয়োজন হয়। আজ সেই ডেকোরেটর ব্যবসায়ীদের চরম দুর্দিন। ডেকোরেটর সমিতির হিসাব মতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ডেকোরেটর দোকান রয়েছে ৩৬৫টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১২৫টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮০টি, আলমডাঙ্গায় উপজেলায় ৯০টি ও জীবননগর উপজেলায় ৭০টি। মালিক, শ্রমিক ও বাবুর্চিসহ এই ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন ৫ হাজার নারী-পুরুষ।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ৪ মাস যাবত সভা সমাবেশ, বিয়ে, ছুন্নতে খৎনাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানাদি বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য ব্যবসা সীমিত আকারে শুরু হলেও ডেকোরেটর ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। ফলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে কষ্টের সাথে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বেশিরভাগ শ্রমিক বেতনভুক্ত নন। তাই তাদের কাজ না থাকায় আয়ের রাস্তা বন্ধ। ছোট ছোট অনেকে ব্যবসায়ী তাদের ডেকোরেটর সামগ্রী  হাড়ি, পাতিল, থালা বিক্রি করে দিনপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়াও অনেক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী রয়েছে ঋণের বোঝা। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত পথে এ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা। না পারছেন এ পেশা ধরে রাখতে, না পারছেন অন্য পেশায় যেতে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঝিনাইদহ বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আসমত আলি নিউজনাউকে বলেন, ‘৪ মাস একদম বসে। কোন কিছুই ভাড়া দিতে পারেনি। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সব অনুষ্ঠান বন্ধ। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করলেও আমরা তা করতে পারছি না। এ অবস্থা চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

রান্নার (পাচক) কাজ করে বাবু বলেন, ‘আমরা কোন বেতন পাইনা। কাজ করলে সেদিনের হাজিরা পাই। সরকারি কোন অনুদান পাইনি। একপ্রকার বাড়িতে বেকার বসে আছি।’

ডেকোরেটর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রিচাড রহমান নিউজনাউকে বলেন, ‘বেশিরভাগ ব্যবসা স্বল্প পরিসরে চালু রয়েছে। একমাত্র ডেকোরেটর ও সাউন্ড ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। লকডাউনসহ এ সময়ে আমরা মূলধনের টাকা বসে বসে খেয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দিনযাপন করছি। প্রশাসন যদি সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন দিয়ে আমাদের ব্যবসা করার অনুমতি দেয় তাহলে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।’

জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়াদ্দার ইবু নিউজনাউকে বলেন, যেহেতু কোন অনুষ্ঠানাদি হচ্ছে না। তাই তাদের কোন কাজ নেই। তারা সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় অবস্থান করছেন। সরকার যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা উপকৃত হবে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...