কঠোরতা কি বাড়বে, নাকি শুধুই সচেতনতার ডাক

0 283

পার্থ প্রতীম নন্দী, চট্টগ্রাম ব্যুরো: সারাদেশ থেকে যখন করোনা আক্রান্তের খবর আসছিল চট্টগ্রামে তখনো ৬০ জনের করোনা পরীক্ষা শেষে মিলেনি ভাইরাসের উপস্থিতি। এতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার এই এক সপ্তাহে চট্টগ্রামের অলি-গলি-সড়ক-গ্রাম-উপজেলায় সবার মধ্যেই ছিল ‘ঘরে থাকার’ সরকারি নির্দেশনা না মানার এক দারুণ প্রতিযোগিতা!

শুক্রবার ( ৩ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি কতটা পাল্টাবে সেটা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন সবাই। সাধারণ ছুটির প্রথম দুইদিনে বেশ ভালভাবে এই নির্দেশ মেনে চললেও এরপর প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৷

গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাগুলা এখন দখলে নিয়েছে রিক্সা আর ভাড়ায় চলা মোটরসাইকেল। সড়কে বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রাইভেট কার। শুধু সড়কের গাড়ি বা অহেতুক আড্ডাই নয়, এমন দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের ধর্মভীরুতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এখনো প্রতিবেলার নামাজে এবং জুম্মার নামাজে মসজিদে ভিড় করছে  মুসল্লিরা। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘোষণা দিয়ে মসজিদে যাওয়া বন্ধ করেছে সেখানে চট্টগ্রামে বাড়ছে মসজিদ মুখো হওয়ার প্রবণতা। অথচ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবেই বন্ধ রাখা হয়েছে সকল সামাজিক আচার অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সভা সমাবেশের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (সিএমপি) জেলা প্রশাসনের নেওয়া নানামুখী উদ্যোগ মানুষের অসচেতনতায় বিফল হতে চলেছে। যেখানে ডাক্তার, সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে নিজঘরেও দূরত্ব মেনে চলুন সেখানে সারা শহরজুড়ে এখন ছুটির আমেজ। গত কয়েকদিনে চট্টগ্রাম নগরের বেশিরভাগ এলাকাতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সর্বত্র মানুষের অহেতুক জটলা কিংবা আড্ডা। হঠাৎ কেন বদলে গেল করোনা সচেতনতায় চট্টগ্রামে প্রতিরোধের চিত্র?

রাস্তায় নেমে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে  জানা গেছে এর কারণ। বেশিরভাগই বলছেন, তারা বের হয়েছেন পেটে ভাতের সন্ধানে। বেশিরভাগ নিম্নবিত্তরা এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ত্রাণের আসায়। যদিও তাদের অনেকেই বিভিন্ন জায়গার ত্রাণ পেলেও আবার পাওয়ার আশায় তারা ভিড় করছে বিভিন্ন জায়গায়। আবার এখনো বেশিভাগ মানুষ বুঝতেই পারছে না করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস বার আউলিয়ার চট্টগ্রামে এই ভাইরাস কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না!

তবে প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্তরা বলছেন, তারা জনগণকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছে। তাই চট্টগ্রামের কোথাও এখনো হার্ড লাইনে যাওয়া হয়নি। তবে কমিউনিটির বেশিরভাগ মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনে কঠোরও হবেন তারা।

সিএমপি কমিশনার মোঃ মাহবুবর রহমান নিউজনাউকে বলেন, মানুষকে ঘরে রাখতে শুরু থেকেই সিএমপি নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আমরা ডোর টু ডোর শপ চালু করেছি।  নিম্নবিত্তদের পর মধ্যবিত্তরাও যাতে ত্রাণ পায় সেই ব্যবস্থা করেছি। আমরা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু এসবে কাজ না হলে আমরা কঠোর অবস্থানে যাবো।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার এই সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...