বাড়ছে যমুনার পানি, সিরাজগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে দ্বিতীয় দফায় গত দুই দিন ধরে সিরাজগঞ্জে আবারও বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। এতে দুশ্চিন্তায় নদীতীরবর্তী মানুষেরা।

জেলার নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলা সিরাজগঞ্জ সদর,কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বানভাসি বন্যা দুর্গত মানুষদের ঘর-বাড়ি থেকে বন্যার পানি নামতে না নামতেই আবারও যমুনার পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে নানা সংকটের কারণ হয়েছে।

গত ১৫ দিন ধরে যমুনা নদীর অববাহিকায় জেলার পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের পানি বন্দি দেড় লক্ষাধিক মানুষ ও বাঁধ,উঁচু জায়গা ও স্কুল ঘরে আশ্রিত মানুষেরা, খাদ্য,বিশুদ্ধ পানি,ঔষধ,জ্বালানি ও গো-খাদ্যের সংকটে রয়েছে।

বন্যায় কর্মহীন হয়ে দিশেহারা শ্রমজীবী মানুষেরা। যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা আরও দীর্ঘায়িত হলে চরম খাদ্য সংকটে পড়তে হবে বানবাসি পানিবন্দী ও বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষদের।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকাল ৬ টায় বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
অন্যদিকে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিনই সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলার ১৭৯ টি সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...