alo
ঢাকা, সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সামান্য সম্পদের জন্য ভাবি দেবরকে বিষ প্রয়োগ করলো!

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:০৮ পিএম

সামান্য সম্পদের জন্য ভাবি দেবরকে বিষ প্রয়োগ করলো!
alo

 

সাইফুল করিম মজুমদার: আমি সাইফুল মজুমদার ৩০ বছর যাবত জার্মান প্রবাসী। আমি জার্মানি মহিলা বিয়ে করেছি। আমার এক মেয়ে সন্তান আছে নাম নার্গিস। ১৭ বছর বয়স। আমার জার্মান বউয়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। 

২০২২ সালে বাংলাদেশে বিয়ে করার কথা ছিল। আমি বিয়ে করবো এজন্য মায়া ভাবি ভালো চোখে দেখে নাই। আমার বড় ভাই জুয়াইদুল করিম সেলিম। উনার স্ত্রী আমার ভাবি রহিমা খাতুন মায়া। ভাবির তিন ছেলে দুই মেয়ে। একরাম, এনাম, রাহেন, মেরি ও এনি। মেজো ভাই কানাডা থেকে ফ্যামিলিসহ। বাড়ির সব সম্পত্তি মায়া ভাবির দখলে। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করার জন্য আসলে পাত্রীপক্ষ আমার বাড়িতে আসলে মায়া ভাবি বিয়ের ভাঙ্গানি দিয়ে থাকে। 

এবার ২০২২ সালে আমার বিয়ে করার কথা ভাবি তা ভালো চোখে দেখে নাই। আমি ঘুম থেকে সকাল দশটায় উঠি বাংলাদেশে। একা একা ভাবির ঘরে চা নাস্তা খাই। এবার ফেনীর পার্শ্ববর্তী সোনাপুর গ্রামে আমার বাড়িতে বিল্ডিং তালা মারা তাই খাওয়া-দাওয়া ভাবীর ওখানে খাই। ভাবির ঘরে চায়ের ফ্লাক্স এর মধ্যে এবং দেশীয় খোলাসা পিঠার ভিতর বিষ প্রয়োগ করেছে ভাবি। এক সপ্তাহ চা পিঠা খাবার পর আমার পেটে কামড়ানি শুরু হয়েছে অসম্ভবভাবে। এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এক সপ্তাহ যাবত। বুকজ্বালা পেটজ্বালা আরম্ভ হয়েছে। মনে মনে ভাবলাম ভাবি আমার খাওয়াতে স্লো পয়জনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করেছে। ভাবির ঘরে দুটি বিষের বোতল দেখতে পাই একটা বিষের বোতল খালি একটা পুরো। 

ভাবিকে বিষের বোতলের কথা জিজ্ঞেস করায় ভাবি কোন ভালো উত্তর দিতে পারে নাই। টিকেট ওকে থাকার চার দিন আগে দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে চার দিন আগে জার্মান চলে আসি। জার্মান ডাক্তার দেখানোর জন্য। জার্মান ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছে। বিষ প্রয়োগে নাড়িভুড়ি পাকস্থলী নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জটিল অপারেশন করতে হবে। পাকস্থলী ফেলে দিতে হবে। নারী বুড়ি অর্ধেক কেটে ফেলতে হবে। অপারেশন করেও লাভ হবে না। 

জার্মান হসপিটালে ডাক্তার বলেছে বাঁচার কোন সম্ভাবনা নাই। সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করি আমার মৃত্যু যেভাবে হচ্ছে ওদের মৃত্যু যেন সেভাবে হয়। এই সুন্দর পৃথিবীতে বুড়ো হওয়া পর্যন্ত বাঁচার ইচ্ছা ছিল। এই সুন্দর পৃথিবী থেকে মরতে ইচ্ছে করছে না।

২০২৩ সালের শেষে দেশের মালিক হওয়ার সব ঠিকঠাক ছিল কয়েক মাসের মধ্যে মৃত্যু অনিবার্য তাই দেশের মালিক হতে পারলাম না। ১০০% ওকে ছিল দেশের মালিক হওয়ার।  

Open photo

উপরের ছবিটি ভাবির।

জার্মান ডাক্তার পাকস্থলী ও নারীভূড়ি থেকে এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে মাংস নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে পাকস্থলী ও নাড়িভুড়িতে ১০০% বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। 

আমার মেজো ভাই জহিরুল করিম সাজুর এবং আমার সব সম্পত্তি মায়া ভাবি দখলে। সামান্য সম্পদের জন্য একজন জার্মান প্রবাসীকে কিভাবে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলতে পারে তাও কল্পনীয়। আমাদের ফেনীর ঐতিহ্যবাহী জামাল উদ্দিন মজুমদার বাড়ির ফ্যামিলির মধ্যে শত বছর ইতিহাসে এই প্রথম মায়া ভাবি দেবরকে বিষ প্রয়োগ করলো। 

এই সুন্দর পৃথিবীতে আমি বাঁচতে চাই এই সুন্দর পৃথিবীতে কে আমি চলে যেতে চাই না। আমারও বাঁচার ইচ্ছা আছে কিন্তু পারলাম না সেই বিষাক্ত সাপের জন্য। এই সুন্দর পৃথিবীতে থাকতে চাই আমি থাকতে চাই এই পৃথিবীতে আমার যেভাবে মৃত্যু হচ্ছে আমার আমার বিষ প্রয়োগকারী ও যেন এভাবে মৃত্যু হয় এই কামনা করি। 

লেখক: জার্মান প্রবাসী।

X