alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক বাংলা: বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৮:৪৪ পিএম

দৈনিক বাংলা: বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে
alo


আশীষ কুমার দে: জন্মলগ্ন থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকা দৈনিক বাংলা বিলুপ্ত হওয়ার দীর্ঘ দুই যুগ পর ৪ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হলো পত্রিকাটি। সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন দেশবরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খান; যিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকাকালীন সর্বশেষ এর সম্পাদক ছিলেন। 

অন্য পত্রিকাগুলোর সঙ্গে আজ থেকে এক কপি দৈনিক বাংলা দেয়ার জন্য হকারকে আগেই বলে রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য ভালো মানের কোনো নতুন পত্রিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে আমি এমনটি করে থাকি। আর দৈনিক বাংলার ক্ষেত্রে আগ্রহটা একটু বেশি ছিল। 

কারণ, পত্রিকাটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্বে আছেন আমার প্রিয় পিতৃভূমি বাগেরহাটের দুই কৃতী সাংবাদিক। এঁদের একজন অনুজ প্রতিম শরীফুজ্জামান পিন্টু; যিনি এর আগে প্রথম আলো ও জনকণ্ঠে দীর্ঘদিন কাজ করে নিজেকেই একটি ইন্সটিটিউশনে পরিণত করেছেন। 

অন্যজন হলেন আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন তানভীর সোহেল; যিনি ভোরের কাগজে আমার সহকর্মী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম আলোয় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এখানে তানভীরের আরেকটি পরিচয় না দিলেই নয়। তাঁর বাবা প্রয়াত শেখ আব্দুস সবুর দীর্ঘদিন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের (বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়ন) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং তিনি ছিলেন আমার দেখা অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক একজন জনপ্রতিনিধি।   

পিন্টু এবং তানভীর সোহেল আমাকে তাঁদের অফিসে চা খাওয়ার জন্য ইতোপূর্বে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়া অর্থনীতি বিটের বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুর রহিম হারমাছি, হাসান ইমাম রুবেল এবং তৌফিক ইসলাম আমার খুব প্রিয়ভাজন; যাঁরা পত্রিকাটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। সুতরাং প্রকাশনার আগেই এ পত্রিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি আমি। 

প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক হিসেবে শ্রদ্ধেয় তোয়াব ভাইয়ের নাম থাকলেও বয়সের ভারে আগের মতো দায়িত্ব পালনের শারিরীক সক্ষমতা তাঁর নেই। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে পিন্টুর নেতৃত্বাধীন টিমকেই। এছাড়া নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার মূল পরিকল্পকও শরীফুজ্জামান পিন্টু।  

যা হোক, সকালে অফিসে এসেই প্রথমে পত্রিকাটি উল্টে-পাল্টে দেখলাম, কয়েকটি প্রতিবেদন ও লেখা পড়লাম। বেশি নজর দিলাম প্রতিবেদনের মান এবং গেটআপ-মেকআপের ওপর। একইসঙ্গে পত্রিকার ওয়েব ভার্সনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম।


আমার মূল্যায়ন: উদ্বোধনী সংখ্যা হওয়ায় আজ প্রতিবেদন কম; এর বিপরীতে বিশিষ্ট জনদের লেখা ও বিজ্ঞাপন বেশি। হয়তো আরও কয়েকদিন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার গেটআপ-মেকআপ খুব পরিচ্ছন্ন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিবেদনগুলো তথ্যসমৃদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ, সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন। ভাষা শৈলী সাবলীল। চোখ ঝাঁঝালো রঙ না থাকায় দেখতেও ভালো। প্রতিবেদন ও ফিচারের শিরোনাম পছন্দসই।  

আমার দৃষ্টিতে ত্রুটিবিচ্যুতি: পত্রিকার ওয়েবসাইটের প্রিন্টার্স লাইনে নির্বাহী সম্পাদক শরীফুজ্জামান পিন্টুর নাম থাকলেও মুদ্রিত সংখ্যায় তা নেই। আমার বিবেচনায় দুই ভার্সনেই পিন্টুর নাম থাকা প্রয়োজন। 

আবার ওয়েবসাইটের প্রিন্টার্স লাইনে কোনো ইমেইল আইডি দেয়া না হলেও মুদ্রিত সংখ্যার প্রিন্টার্স লাইনে দুটি ইমেইল আইডি রয়েছে। তবে কোনটি নিউজ বা রিপোর্টিংয়ের আর কোনটি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের- তা উল্লেখ নেই। 

উপ-সম্পাদকীয়, নির্ধারিত লেখকদের লেখা ও মতামত বা মুক্তমত (অনির্ধারিত লেখকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) পাঠানোর জন্য এবং বিজ্ঞাপন বিভাগের জন্য আলাদা ইমেইল আইডি ও ফোন নম্বর প্রয়োজন। আর এসব আইডি প্রিন্ট ও ওয়েব- দুই ভার্সনেই থাকা উচিৎ। এছাড়া পত্রিকাটির ওয়েবসাইটে অনলাইন সংস্করণ নামে আলাদা কোনো ক্যাটেগরি চোখে পড়েনি; যা অত্যন্ত জরুরি। 
আশা করি, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলোর ওপর নজর দেবেন। 

সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে ‘সব মিলিয়ে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলা’ বেশ ভালোই হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সামান্য ত্রুটিগুলো পর্যায়ক্রমে সংশোধন হবে এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে পাঠক নন্দিত হয়ে উঠবে। 

আমাদের প্রত্যাশা: একজন সংবাদকর্মী, একজন পাঠক এবং সর্বোপরী দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা- দৈনিক বাংলা হবে গণ মানুষের কণ্ঠস্বর। এর পাতায় পাতায় ঝকঝকে ছাপার হরফে ফুটে উঠবে নদ-নদীসহ উন্মুক্ত জলসম্পদ, সবুজ বৃক্ষরাজিসহ প্রাকৃতিক বনসম্পদ এবং অনগ্রসর জাতি-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার কথা। নিয়মিত প্রকাশ পাবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবেদন ও বিভিন্নজনের লেখা। রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের অনাচার, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি আর শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবিচল থাকবে এর পথচলা। 


আমি পত্রিকাটির সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা প্রত্যাশা করি। একইসঙ্গে শ্রদ্ধেয় তোয়াব ভাই ও তারুণ্যের অহংকার অনুজ প্রতিম পিন্টুর নেতৃত্বাধীন এক ঝাঁক তারকা সাংবাদিকের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

লেখক: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক।

X