সত্য গল্প…

0 16

চঞ্চল চৌধুরী:
শুদ্ধ’র চেয়ে শুয়ে থাকা এই ডিভানটার বয়স বেশি। গদিটা আগের মত নরম বা আরামদায়ক নেই।

তার পরেও স্মৃতিময়, মায়াময় এই আমি, এই আসবাবটিকে আমার মতই পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রেখে দিয়েছি।

কিনেছিলাম পনের হাজার টাকায়, এখন মেরামত করতে লাগবে বাইশ হাজার টাকা।

ঠিক আছে, আরাম দেবার ক্ষমতা কমে গেলেও, কৃতজ্ঞতার খাতিরে তুই আরো কিছুদিন এই পরিবারের সদস্য হিসেবেই থাক। যতদিন তোর নিয়তি আছে আমার সংসারে।

বছর দশেক আগে কোন এক পত্রিকা সাংবাদিক আমার সত্য জীবন আবিষ্কার করতে এসে, এই ছবিটা তুলেছিলেন।

সযত্নে ছবিটা আমি বাঁধিয়ে, টানিয়ে রেখেছি আমার ওয়ালে।

ছবিটার দিকে তাকালেই, একটা নির্ভরতা আর বিশ্বাসের শব্দ শুনি আমি। যা আমাকে তৃপ্তি দেয়, শান্তি দেয়।

হঠাৎ আজ শুদ্ধকে বললাম, ‘বাবা, আসো এই ছবির মত করে আরেকটা ছবি তুলি।’

শুদ্ধ একই অজানা বিশ্বাসে আমার শরীর জুড়ে আশ্রয় নিলো এই ছবিতে।

ওর বিশ্বাসে কোন কমতি নেই। কিন্তু ওর বুকের স্পর্শে আমার বুকটা কেঁপে উঠলো।

ওর মা ছবিটা তোলার পর, অদ্ভুত এক আনন্দে হাসি দিয়ে বললো, ‘একই রকম হয়েছে, কিন্তু তুমি বুড়া হয়ে গেছো। তোমার সেই চেহারা নেই।’

সত্যিই তো…..

আমি আর সেই আমি নেই।

আমার হাসিটা অনেক ম্লান হয়ে গেছে আগের তুলনায়।

এই করোনা দু:শ্চিন্তা আমাদের সবার চিন্তা, চেতনা, স্বপ্নগুলো ম্লান করে দিচ্ছে।

অজানা আশংকায় চোখ দুটো ভিজে ওঠে আমার। সময়টা ঠিক রাখার জন্য হেঁসে উঠি আমি।

এই সংকট কবে দুর হবে জানি না। আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সময় গুনি।

আমরা সবাই এখন এভাবেই বেঁচে আছি বাধ্য হয়ে। কোন ক্ষমতাই এখন আর আমাদের দোসর নয়।

মানবিকতাই সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

এই গভীর রাতে স্বপ্ন গুনি…..

সবাই নিরাপদে থাকুক….

ভালো থাকুক….

লেখক: অভিনেতা, শিক্ষক ও গায়ক।

(ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...