‘শাবান মাহমুদ আমার ঘনিষ্ঠ ২০০৩ সাল থেকে’

নিউজনাউ ডেস্ক:
তখন, ১৬ বছরেরও বেশি আগে আমরা কাজ করছিলাম দৈনিক নতুনধারা পত্রিকায়। সেই ২০০৩ সাল পুরোটাই বিরাট কর্মযজ্ঞ চললো, ধানমন্ডি-৩২ নম্বর সড়কের ব্রীজ পেরিয়ে হাতের বাঁয়ে বড় মসজিদের পাশেই ছিলো নতুন ধারার অফিস। বাড়ি নম্বর-৫৭, সড়ক ১২/এ ঠিকানার বড় একটি ৪ তলা বাড়িতে

একটা চমৎকার টিমের অন্যতম সদস্য শাবান মাহমুদ। নতুন ধারার গৃহ প্রকাশ সংখ্যাও হয়েছিলো অনেকগুলো । কিন্তু বছর শেষে দুঃখজনকভাবে চমৎকার নামের (নতুন ধারা) পত্রিকাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো, মানুষের হাতে পৌছানো হলো না। সে অন্য কারণে। তবে শাবান মাহমুদকে কেন পত্রিকায় নিয়েছিলাম, সরকারের লোকজন প্রশ্ন তুলেছিলো। এটা আজকের প্রসঙ্গ।

কিন্তু শাবান মাহমুদ থাকলো পরবর্তী সংবাদ পত্র উদ্যোগে, দৈনিক আমাদের সময় নামে।

নতুন ধারায় যোগদানের আগে শাবান মাহমুদ কাজ করতেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা শাবান মাহমুদ বিটিভির মাধ্যমে হয়ে ওঠেন সেই সময়ের ঈর্ষণীয় সুপরিচিত সাংবাদিক মুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন বড় বড় ইভেন্ট কাভারেজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।

দৈনিক আমাদের সময় এর কাজ শুরু হলো ২০০৪ সালের মাঝামাঝি। আমাদের সঙ্গে শাবান মাহমুদ। আপত্তি এলো বিএনপি সরকারের কাছ থেকে । দৈনিক আমাদের সময়ে শাবান মাহমুদকে রাখা যাবে না, রাখলে দৈনিক আমাদের সময়ের ভবিষ্যত অন্ধকার। এ ছিলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি। শাবান মাহমুদ ছাড়াও অরেকটি নির্দেশনা ছিলো। দৈনিক আমাদের সময় থেকে বাসুদেব ধরসহ হিন্দু কর্মীর সংখ্যা কমাতে ।

স্মর্তব্য অক্টোবর ২০০১ থেকে অক্টোবর ২০০৬ ক্ষমতায় বিএনপি জামাত জোট সরকার। দৈনিক আমাদের সময় থেকে তৎকালীন সরকারি দল বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতার কাছে সহযোগিতা চাইলে তারাও তথ্য মন্ত্রণালয়েলর শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তার দেয়া নির্দেশনা পুনরাবৃত্তি করলেন, সাহায্য করলেন না। দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সার্কুলেশন অপ্রতিহত বাড়ছে কিন্তু ডিএফপির তালিকায় বাড়ে না। মিডিয়া লিস্টে অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা। তার ফলে খরচ বাড়ছে আয় বাড়ছে না।

আমরা এত চাপের মুখেও কোনো কর্মীকে বাদ দিইনি, শাবান মাহমুদকেও না। শাবান মাহমুদের প্রতি আমার মমতা সেই বৈরী সময়েও সম্পূর্ণ অটুট ছিলো।

এজন্য চরম অর্থনৈতিক খেশারত দিতে হয়েছে। আমাদেরকে ভাতে মারার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। দৈনিক আমাদের সময়ে তখন সংকটকালীন অর্থ সংস্থানের জন্য লগ্নিকারী খুঁজে নিতে হয়েছে, আর্থিক রক্তক্ষরণের সময় প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে। সেই অনিয়ম, বৈষম্য, অন্যায়জাত যন্ত্রণা ভুলে যাবার নয়।

আমাদের সেই শাবান মাহমুদ এখন অসাধারণ জনপ্রিয়, জাতীয় সাংবাদিক নেতা। শুধু তাই নয়, তিনি এখন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত মহাসচিব। কাজ করছেন সেই সময়ে দৈনিক আমাদের সময়কে টিকিয়ে রেখে আমাকে যিনি কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছিলেন, সেই অকৃত্রিম নঈম নিজাম সম্পাদিত বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত, বাংলাদেশ প্রতিদিনে। শাবান মাহমুদের বর্তমান অবস্থান ও সফলতাই বলে দেয় কেন ১৬ বছর আগে বিএনপি তাকে নিয়ে এত চিন্তিত হয়েছিলো। কেন আমাদের ওপর এত চাপ এসেছিলো। কেন শাবানকে নিয়ে এত ভয় ছিলো।

আমি শাবান মাহমুদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি, এবং আশা করি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে তিনি উজ্জল নক্ষত্র হিসেবে বিরাজ করবেন।

(নাঈমুল ইসলাম খান ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত)

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...