alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বে-টার্মিনালের জন্য বন্দর চায় জমি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৪৬ পিএম

বে-টার্মিনালের জন্য বন্দর চায় জমি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সাগর উপকূলে প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৮০৩ একর জমি ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ চেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দ চাওয়ায় জেলা প্রশাসন এখন দ্বারস্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের বদলে টোকেন মূল্যে খাস জমি বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। এই আবেদন প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন আছে। আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

পতেঙ্গায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে বিকল্প বন্দর বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, সিএমপি ট্রাফিকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তাদের মতামত দেন।

বন্দর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পরামর্শদাতা হিসেবে কোরিয়ান ডাইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ও কোরিয়ান কুনহওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসাল্টিং কোম্পানি লিমিটেডকে যৌথভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংস্থা দুটি ইতোমধ্যে তাদের সূচনা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তবে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন সংস্থার দেয়া যৌক্তিক সব প্রস্তাব একত্রিত করা হবে বলে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যান ও নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করব। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের কাজ শুরু করা হবে।’

অন্যদিকে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রধান পার্ক জং-জিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করে নকশা প্রস্তুত করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমার শেষ প্রান্তে সিইপিজেডের পেছনে সাগরপাড় থেকে সাগরিকায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অদূরে রাসমনিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় আড়াই হাজার একর ভূমিতে এই টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক দশক আগে পরিকল্পনা হলেও এখনও নির্মাণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৬ সালে বে- টার্মিনাল নির্মাণের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষায় কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে এ টার্মিনাল গড়ে তোলার উপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য মোট ৮৭০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে ৬৭ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু সংকট তৈরি হয়েছে জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ করা ভূমি বন্দরের দখলে নিতে গিয়ে। জেলা প্রশাসন ৮০৩ একর ভূমির দাম ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে তহবিল সংকট আছে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে নামমাত্র মূল্যে এই ভূমি হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বন্দরের প্রস্তাবের বিষয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভূমি হস্তান্তরের ফাইল জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসে, সেভাবেই কাজ হবে।’

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বে-টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি ১ হাজার ২২৫ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল, একটি ৮৩০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল এবং একটি দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল। তিনটি টার্মিনালের মোট দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার। মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ টার্মিনালে জেটি থাকবে ছয়টি। বাকি দুটি টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ব্যবস্থায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরদের অর্থায়নে নির্মাণ ও পরিচালনা করা হবে। বে-টার্মিনালে মোট ১৩টি জেটি থাকবে। বে-টার্মিনালে মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের পূর্ব দিকে রয়েছে পোর্ট অ্যাকসেস রোড ও রেলপথ।

বে টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১০ থেকে ১২ মিটার ড্রাফটের ৬ হাজার কনটেইনার বহন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নোঙ্গর করা সম্ভব হবে। বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামোতে জেটিতে সর্বোচ্চ ১৮০০ একক ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ ঢুকতে পারে। এখন বন্দরে জোয়ার-ভাটার ওপর ভিত্তি করে জাহাজগুলো জেটিতে ভেড়ে। কিন্তু বে টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টাই জাহাজ ভিড়তে পারবে।

বে টার্মিনালের ব্রেক ওয়াটার নির্মাণ এবং চ্যানেল ড্রেজিংয়ের জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের ঋণ অনুমোদনের আগে অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর সফর করে। এছাড়া বে-টার্মিনালের অংশীদার হতে সৌদি আরব-আরব আমিরাত-সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশি-বিদেশি ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে বলে বন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে।

নিউজনাউ/একে/২০২২

X