alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

'শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণের ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে'

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৯:৫৮ পিএম

'শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণের ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে'
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচননীতি রুখে দেওয়ার দাবিকে সামনে রেখে শিক্ষা দিবস স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখা।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় নিউমার্কেটের দোস্ত বিল্ডিংয়ে সংগঠন কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার সদস্য আকরাম হোসেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমদ জসিম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রায়হান উদ্দিন, ১১নং জোন ইনচার্জ ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ। সভা পরিচালনা করেন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রীতম বড়ুয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৬২ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকরের তৎকালীন শিক্ষা সচিব এস এম শরিফের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে প্রণয়ন করেছিল চরম বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি, যা শরিফ কমিশন নামে পরিচিত। ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করে একটি বিশেষ শ্রেণির হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবসহ একটি সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি এদেশের জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল তৎকালীন আইয়ুব সরকার। এ চরম বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তৎকলীন ছাত্রসমাজ ১৭ সেপ্টেম্বর (১৯৬২) হরতাল আহ্বান করে এবং এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পেশাজীবী, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বের হয় ছাত্র-জনতার বিরাট মিছিল। মিছিলটি যখন হাইকোর্ট পার হয়ে আবদুল গণি রোডে প্রবেশ করে তখন অতর্কিতভাবে পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করে। শহীদ হন বাবুল (ছাত্র), গোলাম মোস্তফা (বাস কন্টাক্টর), ওয়াজিউল্লাহ (গৃহভৃত্য)সহ নাম না জানা অনেক ছাত্র। ছাত্র জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে আইয়ুব সামরিক জান্তা সরকার এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটে। এরপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বক্তারা আরও বলেন, আজ ২০২২ সালে যখন আমরা শিক্ষা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালন করছি,  ৬০বছর আগে একটি স্বৈরাচারী সামরিক শাসকের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে যে দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, আজও সেই দাবি পূরণ হয়নি, আজও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সাম্প্রদায়িক শিক্ষার মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কূপমন্ডুক মনন তৈরি করছে। আবার শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমাগত বানিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে সংকোচন, বৈষম্য, মুনাফাপ্রধান ও সাম্প্রদায়িকীকরণের  ভিত্তিতেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করছে। 

বক্তারা বলেন, তাই শিক্ষা দিবসের ইতিহাসকে স্মরণ করার পাশাপাশি, আজকের দিনে শিক্ষার এসকল সংকটেও ছাত্রসমাজসহ সকল স্তরের জনগণকে সেই একই সাহস নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X