alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে আবারও আন্দোলনে 'করদাতা সুরক্ষা পরিষদ'

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:৩৭ এএম

চট্টগ্রামে আবারও আন্দোলনে 'করদাতা সুরক্ষা পরিষদ'
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ গলাকাটা গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) আইন বাতিল করে, দৈর্ঘ্য-প্রস্থ গুণ করো তার ওপর কর ধরার দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেছে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। যারা ছয় বছর আগে একই দাবিতে আন্দোলনে নেমে সফলও হয়েছিল। যৌক্তিক উপায়ে গৃহকর না নিলে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিষদের নেতারা।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী দস্তগীর সুপার মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বিগত একমাস ধরে বর্ধিত হারে গৃহকর আদায় ঠেকাতে জনসংযোগ করেছে পরিষদ। এরপর তারা শুক্রবার জনসভা করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি করেন। এসময় পরিষদের সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, ‘বর্তমান মেয়র নির্বাচনের আগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করতে আমার বাড়িতে আসেন। সেদিন উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি হোল্ডিং ট্যাক্সে হাতে দেবেন কি না? জবাবে তিনি বলেছিলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আমার নেতা। তিনি যেখানে হাত দেননি সেখানে হাত দিয়ে কী আমার নেতাকে অসম্মান করব। চেয়ারে বসেই উনি সব ভুলে গেছেন। আমরা উনাকে শ্রদ্ধা সম্মান করি। শহরে সবাই আপনার আত্মীয়-স্বজন। আমাদের উপর করের বোঝা চাপাবেন না।’

তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বর্ধিত হারে হোল্ডিং ট্যাক্স মেনে নিয়ে আপিল করবেন না। আপিলের নামে প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘুষ দাবি করছে সিটি করপোরেশনের লোকজন। বলছে- টাকা দিলে দুই দিনে গৃহকর কমিয়ে সব ঠিক করে দেবে। মেয়র সাহেব আপনাকে মেয়র করে কী আমরা অপরাধ করেছি?’

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চবি শিক্ষক অধ্যাপক আমির উদ্দিন বলেন, 'চট্টগ্রামের মানুষ বাড়ি ভাড়ার উপর ইনকাম ট্র্যাক্স দেয়। আবার যদি বাড়ি ভাড়ার উপর গৃহকর দিতে হয় তাহলে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে হবে। প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সেই রাস্তা খুলে দেন। এখন মেয়র রেজাউল একই পথ ধরেছেন।'

সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি বলেন, 'এক পশলা বৃষ্টি হলে এক হাঁটু পানি হয়। কী সেবা দেন যে, ভাড়ার ওপর ইনকাম ট্রাক্স দেবার পর আবার ট্যাক্স দিতে হবে?'

সাজ্জাদ হোসেন জাফরের সঞ্চালনায় সভায় পরিষদের মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমী, শ্রমিক নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম, হাজী নুরুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ ও হাসান ইমরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, ইসমাইল মনু, মো. আনোয়ার, মুজিবুল হক চুন্নু, বিশুময় দেব বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জনসভা থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ।

উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আমলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পঞ্চবার্ষিকী কর পুনঃমূল্যায়ন করে বর্ধিত হারে গৃহকর আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ’ গঠন করে আন্দোলনে নামেন সাবেক মেয়র (বর্তমানে প্রয়াত) এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে কর আদায় স্থগিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে গৃহকর আদায়ের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে দুই দফা চিঠি দেয় চসিক। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় মন্ত্রণালয়।

তখন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘গণহারে গৃহকর বাড়ানো হবে না, শুধুমাত্র করের আওতা বাড়ানো হবে।’

কিন্তু সম্প্রতি পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় শুরু হলে নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পাঁচ বছর পর একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ‘চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ’।

 

 

 

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X