সাহায্যের জন্য সবাই কিনছে ডাল, তাই বেড়েছে দাম!

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সবাই এগিয়ে আসছে গরীব দিনমজুরদের পাশে। দিচ্ছে চাল, ডাল, তেলসহ অন্য খাদ্যসামগ্রী। এই সুযোগে চট্টগ্রাম নগরীর বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে সব ধরনের ডালের দাম!

 

দেশের ব্যবসায়ের প্রাণকেন্দ্র খ্যাত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ সরেজমিনে ঘুরে মিলেছে এমন তথ্য। তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে প্রায় ক্রেতাশুন্য হয়ে অলস দিন পার করছে শ্রমিকরা। এর মধ্যেই সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বেড়ে গেছে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম। এরজন্য ব্যবসায়ীরা দুষছেন শ্রমিক সল্পতাসহ অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা না থাকাকে।

 

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিনদিনের ব্যবধানে মশুর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ৮০ টাকায়। খেসারি ডাল ৭ টাকা বেড়ে ৮৯ টাকা, মটর ডাল ২ টাকা বেড়ে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ৩ টাকা কমে পেঁয়াজের দাম  বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। ২১ দিনের লকডাউনে থাকায় বেড়েছে ভারতীয় পণ্যের দাম।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন নিউজনাউকে বলেন, বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে সব ধরণের বাজারে মনিটরিং অব্যাহত আছে। তাদের সতর্ক  এবং অনেক জায়গায় জরিমানাও করা হচ্ছে। বাজারে কোনো সংকট নেই। এরপরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন নিউজনাউকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ নেই। শ্রমিক সংকট, ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়াসহ ব্যাংকিং সুবিধা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। সরকারসহ অনেকেই গরীব দুস্থদের জন্য কেজি কেজি ডাল কিনছেন।

তাই ডালের চাহিদার সংকট তৈরি হয়েছে। এতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রয়েছে বলেও তিনি জানান। কিন্তু শ্রমিক সংকটে ডালের দাম বেড়েছে বলে জানান মো. মহিউদ্দিন ।

ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সঞ্জয় দেব নিউজনাউকে বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে আমাদের বেশিরভাগ গোডাউন এখনো বন্ধ। রেডি করা ডালের সংকট আছে। দাম তেমন বাড়েনি জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার স্বাভাবিক হলে কেজি প্রতি দুই-পাঁচ টাকা যা বেড়েছে সেগুলাও কমে আসবে।

ডালের দাম কেন বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মনে হচ্ছে ভাইরাসের ভয়ে মানুষ মাংসের চেয়ে ডাল সবজি একটু বেশি খাচ্ছে। তাই চাহিদা কিছুটা বেশি আছে। তবে আমরা শ্রমিক না পেলে বা ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেলে আমাদের কিছু করার থাকে না।

অন্যদিকে, বাজার সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু এক শ্রেণির ব্যবসায়ী করোনা আতঙ্ককে কেন্দ্র করে অধিক মুনাফার আশায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করছেন। বাজারে যেসব পণ্যের দাম গত দুই মাসেও বাড়েনি, সেগুলো হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। অথচ এসব পণ্যের সংকট কোনো সময়ই ছিল না।

 

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

 

 

 

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...