চট্টগ্রামে আশার আলো ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার’

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে প্রতিদিন যতই করোনা রোগী বাড়ছে ততই কমছে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির সুযোগ। করোনা চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে সীমিত শয্যা ও বেসরকারি হাসপাতালের রোগী ফেরত দেওয়ার ঘটনায় সবাই যখন উদ্বিগ্ন তখন আশার আলো করোনা আইসোলেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম।

 

নগরের স্বপ্নবাজ কিছু তরুণ মিলেই শুরু করেছিলো উদ্যোগ। তাদের সাথে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তা। সবারই লক্ষ্য হাসপাতাল ধারণার বাইরে এসে অন্তত কিছু মানুষকে হলেও যেন করোনার চিকিৎসা দেওয়া যায়। এই পরিকল্পনা আর তরুণদের মধ্যে সীমিত থাকলো না। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এই তরুণদের সাথে যোগ দিয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমের সম্পাদক-সাংবাদিক, আইনজীবী সহ আরো অনেক মানবিক মানুষ।

 

নগরের হালিশহরের ’ অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হচ্ছে আইসোলেশন সেন্টারটি। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন কম এবং মাঝারি উপসর্গ আছে এমন করোনা রোগীদের তারা চিকিৎসা সেবা দেবেন।

করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম- এর প্রধান উদ্যোক্তা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন নিউজনাউকে বলেন, আমরা সবাই মিলে এই মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাই। তাই কিছু মানবিক মানুষদের সাথে নিয়ে আমরা এই আইসোলেশন সেন্টারের কাজ শুরু করেছি। এইখানে অন্তত একশ জন করোনা পজিটিভ রোগীকে আমরা রাখব। তাদের অক্সিজেন সাপোর্ট থাকবে, স্বাভাবিক চিকিৎসাগুলো হবে, থাকবে ভালোবাসাময় সেবা।

উদ্যোগটির শুরুর দিকের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রথমে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন ভাইয়ের সাথে এই বিষয়ে আলাপ করি। এরপর লিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও নিউজনাউ টুয়েন্টিফোর ডট কমের সম্পাদক মো. মানিক বাবলু ভাইয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলি। তার সাহসী ‘উসকানিতে’ আমি দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে কাজ শুরু করি। এরমধ্যেই তিনি আইসোলেশন সেন্টারের জন্য শয্যার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

আমিন ভাইয়ের সাথে আলাপের প্রসঙ্গে সাজ্জাদ বলেন, আমার পুরো পরিকল্পনা শুনে তিনি বলেন ‘কোথায় করবে? আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ আমিও কয়েকটি স্থানের কথা বলেছি সেখান থেকে উনি প্রিন্স অব চিটাগাং এর স্বত্ত্বাধিকারী আবুল বাশার আবু ভাইকে ফোন করে বলেন ক্লাবটা দিতে। আর আবু ভাইও এককথায় রাজি হয়ে যান। এভাবেই শুরু হয়ে যায় আমাদের কার্যক্রম।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সম্পাদক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, শিক্ষক বন্ধুরা। সবাই মিলেই আমরা কিছু একটা করতে চাই। যে যার অবস্থান থেকে আর্থিক সহযোগিতা করছে। শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে আমাদের কাজে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম আমীন নিউজনাউকে বলেন, এইখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। যেহেতু আমাদের এইখানে ঘন বসতির জায়গা, সবার বাসায় আসলে দূরত্ব রেখে থাকা সম্ভব না। তাই আমরা করোনা রোগীদের আইসোলেটেড রাখার জন্য এই সেন্টারটি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের সাথে আমরাও পাশে থাকতে চাই। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমাদের নেত্রীর নির্দেশে আমরা দেশমাতৃকা রক্ষায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে চাই। তবে এই সেন্টারে দল মত নির্বিশেষে সবাই চিকিৎসা পাবেন বলেও তিনি জানান।

শুক্রবার (৫ জুন) আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসময় তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ যেহেতু পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেহেতু বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা সেবাদানের নতুন নতুন ক্ষেত্র স্থাপনের চেষ্টা করছি এবং সেই লক্ষ্যে প্রতিদিনই পদক্ষেপ নিচ্ছি। প্রিন্স অব চিটাগং আইসোলেশন সেন্টার খুব শিগগিরই নগরবাসীর সেবা দিতে প্রস্তুত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিউজনাউ/পিপিএন

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...