কনটেইনার জটেই কাটছে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কনটেইনার জট। এই অবস্থায় বছর ঘুরে ২৫ এপ্রিল আসায় আজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন। তবে এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দিবসটি পালন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বন্দর ব্যবহারকারী, কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির ৯২ শতাংশেরও অধিক পণ্য এবং ৯৮ শতাংশ কনটেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করে থাকে। ২০১৯ সালে এই বন্দর ৩১ লক্ষাধিক কন্টেইনার হ্যান্ডেল করেছে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা লয়েড লিস্ট রেজিস্টারের তালিকায় বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত কন্টেইনার বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এই অর্জন বর্তমান সরকারের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই প্রতিফলন। জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে বন্দরটি পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গৃহীত বিভিন্ন স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ বদ্ধ পরিকর। তাছাড়া একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বন্দরের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, মাতারবাড়ি বন্দর নির্মাণ ও নিউমুরিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালেও চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা দেশের সাপ্লাই চেইন নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমদানিকৃত মালামাল ডেলিভারি সীমিত হওয়ার কারণে বন্দরে সাময়িক কন্টেইনার জট ও জাহাজজট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও বলা হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন চৌধুরীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং জাতীয় রাজস্ববোর্ডের আমদানি কন্টেইনার অফডকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত বন্দরকে আবার সচল করেছে। আমদানিকারকরা দ্রুততম সময়ে তাদের আমদানিকৃত পণ্য খালাসের মাধ্যমে বন্দরকে করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতেও সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে বর্হিবিশ্বে দেশের ও চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সর্বাত্মক সহায়তার জন্য বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর, শিপ হ্যান্ডেলিং অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট,  ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, বিকডা, শিপিং এজেন্ট, শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী ও স্টেকহোল্ডারকে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...