ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকুন সবসময়

নিউজনাউ ডেস্ক:

আর কিছুই ভালো লাগছে না, কিছুই হলো না জীবনে, চারদিকে এত কষ্ট আর হতাশা দেখতে দেখতে আপনি পাগলপ্রায়। সমাধানের পথ পাচ্ছেন না, দিন দিন বদলে যাচ্ছেন আপনি। কখনো ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এটাকেই আপনি ডিপ্রেশন বা চরম বিষণ্নতা বলতে পারেন। ডিপ্রেশন আপনাকে শেষ করে দিলেও এর সমাধান কিন্তু আপনার হাতেই।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ

হুটহাট করে মানসিকতার পরিবর্তন। মানে এই ভালো আবার এই ভালো অনুভব করা। জীবনটাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে না পারা।

জীবনের প্রতি ঘৃণা বা উদাসীনতা। মনে হয় অনেক কিছু পাওয়ার ছিল, করার ছিল, হলো না। অতএব এই জীবনটা অর্থহীন। সবকিছুতে বিরক্তিভাব আসবে, মেজাজ খিটমিটে হবে। ভালোকিছুও ভালো লাগবে না।

যেকোনো কাজেই মন বসে না। উৎসাহের অভাবে অল্প বয়সেই ক্লান্তি অনুভব করা। কাজ করার ক্ষমতা আছে কিন্তু ইচ্ছার অভাবে কিছুই করতে চায় না। অলসতা জেঁকে বসে। নিজের যত্নের দিকেও খেয়াল থাকে না। ঘুমের কোনো আকাঙক্ষা থাকে না।

বিভিন্ন চাহিদার সৃষ্টি হয়। কোনোকিছুতেই মন সন্তুষ্ট হতে চায় না। মনের মধ্যে ক্রোধ, প্রতিশোধপরায়ণতা বাড়তে থাকে। কারো জন্য কষ্ট পেলে তার প্রতি প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে করে। ডিপ্রেশনের এটা একটা বড় লক্ষণ।

আবেগ সবারই আছে। কিন্তু সেই আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেটা ডিপ্রেশনের লক্ষণ। বেশি বেশি মন খারাপ, কান্না পেলে বুঝে নেবেন আপনি ডিপ্রেসড। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করবে।

সমাধান কি

জীবনে দুঃখ আসবে, সুখের পাশাপাশি সেটাকেও মেনে নিতে হবে। যেখানে আনন্দের শেষ, সেখান থেকেই আনন্দ খুঁজে নিন। চিন্তার পরিবর্তন করুন। ব্যর্থ চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা, অহেতুক চিন্তা, ভয়ের চিন্তা ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এজন্য সবার সঙ্গে কথা বলা, শান্ত থাকা, ইতিবাচক হওয়া, চারপাশটা বদলাতে না পারলেও নিজেকে বদলানোর চিন্তা থাকতে হবে।

নিজের গুণগুলোর পাশাপাশি ত্রুটিগুলোকেও মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের কাউন্সেলিং নিজে করা দরকার। বিশেষ করে নিজের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করতে হবে। কেউ বিরক্ত করলে তাতে বিরক্ত না হয়ে ইগনোর করার চেষ্টা করুন। নিজের মনের দায়িত্ব নিজেই নিন, নিজেকে প্রচণ্ড ভালোবাসুন, শক্ত হবেন। নিজে যেমন আছেন, তেমনভাবেই ভালো থাকুন।

সাধারণ জীবনযাপন করবেন। বেশি প্রত্যাশা করে ব্যর্থতা ডেকে আনবেন না। নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিন। বাহ্যিক সুখ ক্ষণস্থায়ী, তাই আন্তরিক সুখের সন্ধানে নিয়োজিত থাকা দরকার।

অনেককিছু ভুলে যেতে হবে, ক্ষমা করা শিখতে হবে, তাহলে বিষণ্নতা আসবে না। নিয়মিত প্রার্থনা করবেন, সৃষ্টিকর্তাকে ডাকবেন। আপনার মনের বোঝা কিছুটা হলেও সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে ভাগাভাগি করুন।

বিষণ্ণতা দূরীকরণে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভিটামিন বি, সি, ডি এবং আয়রনযুক্ত খাবার মন ও শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। আর যেই কাজ করতে ভালো লাগবে, সেটাই আর অবশ্যই শরীরচর্চা, মন দিতে হবে। প্রকৃতির কাছাকাছি যাবেন বেশি বেশি। মানু্ষের মনের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক সেই আদিকাল থেকেই। আবহাওয়ার পরির্বতন বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করে।

কখনো একা থাকবেন না। যাদের সাথে থাকতে ভালো লাগে তাদের সাথে কথা বলুন। কাছের বন্ধুটিকে মনের কষ্টগুলো খুলে বলুন, হাসি-ঠাট্টা করুন। আপনজনদের সাথে গল্পগুজব করলেও মন ভালো থাকবে। সময় সুযোগ পেলে নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। যদ্দূর সামর্থ্য আছে, ঘুরতে যাবেন।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...