শীত ও বৃষ্টিতে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা!

নাজমুল হাসান সাগর: শীত, বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক আবহাওয়া। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে ৯৩ জন ও ঢাকার বাইরে সাত জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনার কারণে ডেঙ্গুর ব্যাপারটি সাধারণ পর্যায়ে আলোচনায় না এলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতনমহল বেশ উদ্বেগ জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা এমন বৃষ্টিতে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তাঁরা ধারণা করছেন, করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিশাল একটা বিপর্যয়ের আশঙ্কাও আছে।

একদিকে করোনা, অন্যদিকে ডেঙ্গু- এমন অবস্থায় বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি জানতে নিউজনাউ২৪.কম কথা বলে আইইডিসিআর পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরীনের সাথে। তিনি জানান, করোনার কারণে এতদিন ডেঙ্গুর বিষয়ে খুব একটা নজরদারি ছিলো না। মাঝখানে কিছুদিন বৃষ্টি হলো, আবার শীতও নেমেছে। এমন শীত ও বৃষ্টিতে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা আছে। এ বছরে অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীত ও বৃষ্টির পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

এমতাবস্থায় ডেঙ্গুর জন্য আলাদা কোনো পদক্ষেপ আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, আলাদা কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে জ্বর-ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশি হলে ডেঙ্গুর বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। এমন অবস্থায় চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে, তখন তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে, একটু ভিন্ন মত ও আশার বাণী শুনিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, সাধারণত একসঙ্গে দুইটি (কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু) ভাইরাসের সংক্রমণ হয় না। দেশে যেহেতু করোনার সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে। তাই ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক হবে, তা মনে হয় না।

কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত দেশে ৯৬৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছয় জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দুটি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর ২০১৯ সালের জুন মাসেই ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। ডেঙ্গু সংক্রমণ অব্যাহত থাকে জুলাই মাসেও। আগস্ট মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। পরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসেও দেশে ১৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...