মন্ত্রিসভা রদবদল হচ্ছেই; আসছে নতুন-পুরোনা মুখ!

আবু তাহের বাপ্পা : আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে মন্ত্রিসভার রদবদল দেখতে! রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে দুবাই থেকে মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরেছেন। শোনা যাচ্ছে, এবার মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি গতি পাবে। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজনাউকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সবুজ সংকেত দেবেন। আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না!

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রিসভায় রদবদল বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকার গঠন ও রাষ্ট্রাচার শাখা থেকে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সবুজ সংকেত পেয়ে নতুনদের তালিকা সংগ্রহ ও প্রত্যেকের শপথের জন্য স্বতন্ত্র ফোল্ডারও প্রস্তুত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। যাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে! এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি জানান, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা নিয়োগ দেওয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা সেটি তার জানা নেই।

সবখানে গুঞ্জন, সবখানে একই আলোচনা। কে কে যুক্ত হচ্ছেন পরিবর্তিত মন্ত্রিসভায়? আর কে কে বাদ পড়তে যাচ্ছেন? পেছনের কারণ কি কি? জনতার মতামত বলে কথা! তবে মন্ত্রিসভায় রদবদলের খবর চাউর হয় মহামারি করোনাভাইরাস আসার আগে থেকেই। এরপর দেশব্যাপী ছড়িয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। যুক্ত হতে পারেন নতুন, সম্ভাবনাময় ও ক্লিন ইমেজের কয়েকজন। আওয়ামী লীগের প্রবীণ কয়েকজন নেতাও মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এও শোনা যাচ্ছে যে, দু-একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগ থেকেই মন্ত্রিসভা রদবদলের খবর ছড়ায়। এতে হাওয়া দেন খোদ সরকার দলীয়, জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে গত ১৩ জুন করোনাভাইরাসে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়। শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়টি শূন্য রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

করোনো মহামারিতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বারবার তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। গত জুনে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেন। শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভায় তাকে আর রাখা হচ্ছে না। সরিয়ে দেয়া হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে যদি সরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কে পাচ্ছেন এই দায়িত্ব?
এর সঠিক উত্তর কেবল প্রধানমন্ত্রীই দিতে পারবেন। কারণ, সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলেও প্রধানমন্ত্রী পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেছেন!

সংসদের সদ্যসমাপ্ত নবম অধিবেশনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন দিক থেকে এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও একটা গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আরও দুয়েকটি মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে।

জোর গুঞ্জন রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। শোনা যাচ্ছে, তাকে এই মন্ত্রণালয় খেকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কারণ, যোগ্য ও পরীক্ষিত কেউ ছাড়া মন্ত্রণালয় গতিশীল হচ্ছে না। বর্তমানে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে মন্ত্রণালয়ে। এক্ষেত্রে বার বার ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম! সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মতো প্রবীণ ও পরীক্ষিত মানুষকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে তা অনেক গতিশীল হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল সেবা চালু হবে দ্রুত। যা সব মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া।

এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ছাড়াও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দুযোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বজলুল হক হারুন। ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর নামও আলোচিত হচ্ছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী নিয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত বছর ১৯ মে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হয়। একই বছর ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। আর প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ হন পূর্ণমন্ত্রী।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...