করোনা মোকাবিলায় এমপি-মেয়র কোথায়!

শিপন হালদার:

সারাবিশ্বে মহামারী রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। চীন থেকে ইউরোপ। এখন যুক্তরাষ্ট্রে। আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ লাখ ছাড়িয়েছে। সবখানে করোনা আতংক। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। আপনি-আমিও চিন্তিত। উদ্বিগ্ন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অবহেলা করেছি। সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে অজ্ঞানতা প্রকাশ করেছি। বাস্তবতা কী বলছে আমাদের? কী দেখছি আমরা? কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ? শুরুর বোকামি পরে কিছুটা হলেও শোধরানো গেছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কি আমাদের দায়িত্বটুকু ঠিকঠাক পালন করছি? দেশের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেও আমরা যথেষ্ট সচেতন থাকছি না। মানছি না সরকারের নির্দেশনা। মানছি না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা। হোম কোয়ারেন্টিনে/ ঘরে থাকছি না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকছি না। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছি না। বয়কট করছি না সামাজিক অনুষ্ঠান। আমরা যে মোটেও সচেতন নই, তা দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর ঢাকা ছাড়ার সময় দেখেছেন। নির্দেশনা মানাতে মাঠে নামতে হয়েছে প্রশাসনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত। নামাতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। আপনার আমার জীবন বাঁচাতে কষ্ট করছেন তাঁরা। অথচ আমাদের জীবন নিয়ে আমাদের কোন চিন্তাই নেই! কী বলার আছে এখানে?

করোনা প্রতিরোধের সব দায়িত্ব সরকারের। দেশকে রক্ষায় নিবেদিত আমলা এবং প্রশাসন। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাঁরা। দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে দেখার সময় এখন নয়।

চিকিৎসক-নার্সদের কথা বলতেই হবে। নেই পিপিই, করোনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা, মাস্ক, বিশেষায়িত হাসপাতাল, প্রয়োজনীয় আইসিইউ, ভেন্টিলেশন যন্ত্রপাতি। এতো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই অবদান জাতি কীভাবে ভুলবে! কোনদিনও পারবে না। অথচ আমরা কতটা নির্বোধ! রাজধানীতে চীনের আদলে হাসপাতাল করতে চাইলে বিবেকহীনভাবে বাধা দিচ্ছি! কী ঘটবে আমাদের ভাগ্যে, কে জানে!

আর একটি কথা, আমাদের জনপ্রতিনিধিরা কোথায়? দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁরা কেন সাধারণ মানুষের পাশে নেই? কাছাকাছি সময়ে ভোট নেই, এজন্য? হতে পারে। বড় স্বার্থপর রাজনীতিবিদরা। মন্ত্রী-এমপি-মেয়ররা। আমরা তাদের পাশে চাই। ভোটের সময়ের মতো কাছে চাই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দল মত ভুলে রাজনীতির মানবিক চেহারা দেখতে চাই। অভাবী মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে দৌঁড়াচ্ছেন, দেখতে চাই।

সবশেষে একটাই আর্তি, আপনাদের জন্য কোয়ারেন্টিন নয়; ঘর থেকে বের হন। আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমাদের সাহস দেন।

লেখক: শিপন হালদার, নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...