এসব কি হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে?

শিপন হালদার : বিতাড়িত জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের মহানুভবতা। বৈদেশিক অনুদান। নিরাপদ আশ্রয়। কি পায়নি রোহিঙ্গারা! তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। মেনে নিয়েছেন পরিবেশ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি।

পাহাড় কেটে পরিবেশ নষ্ট করেছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের কোণঠাসা করে তারাই হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ! বিপন্ন হওয়ার পথে পাহাড়ি সংস্কৃতি। জীববৈচিত্র্যও আজ হুমকির মুখে। বেড়ে গেছে লুটপাট, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা। জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়। গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। জাল পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশ গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণও নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। এসব খবর কম-বেশি সবাই জানেন।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে হবে-তা কেউ জানে না। হয়তো হবেও না। এভাবেই বোঝা বইতে হবে বাংলাদেশকে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধু মহানুভবতা নয়; প্রয়োজনে কঠোর হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘটনা সচেতন সমাজকে খুব ভাবাচ্ছে। মঙ্গলবার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। গণমাধ্যম বলছে, নিহতরা সবাই রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের সদস্য। এর আগে আরো ২ জন নিহত হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে হরহামেশাই এ ধরণের গোলাগুলি হচ্ছে। যা রাতভর চলছে। প্রশাসনও এমন পরিস্থিতি অসহায় হয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, গোলাগুলির জন্য এসব গোলাবারুদ, অস্ত্র আসছে কোথা থেকে? কেন ঘটছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা? সীমান্ত কি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে? নাকি সীমান্তে নজরদারি শিথিল? এমন কথাও অনেকে বলছেন, সীমান্ত পাহারাদারও অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছেন! এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার! আমাদের ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবে না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী বাহিনী কারা গড়ে তুলছে? কারা মদদ দিচ্ছে তাদের? দেশী-বিদেশী এনজিওগুলোর ভূমিকা কে বা কারা মনিটরিং করছে? আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে হবে ক্যাম্পগুলোতে। সীমান্ত ও ক্যাম্পে বাড়াতে হবে নজরদারি। অপরাধ ঘটলেই জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অন্য উপায় কি?

লেখক: শিপন হালদার, নির্বাহী সম্পাদক, নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...