আরাধ্য ট্রেবল জয়ী সাত ক্লাব

আহাদ সাগর:ইউরোপের ফুটবল ইতিহাসে অল্প কিছু দলই কেবল ট্রেবল জয়ের বিরল কীর্তি গড়তে পেরেছে। ক্লাব ফুটবলে ট্রেবল বলতে সাধারণত এক সিজনে একসাথে ৩টি ট্রফি অর্জনকে বুঝায়। একই মৌসুমে ঘরোয়া লিগ, কাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে এই ত্রিমুকুট জয়ের ইতিহাস এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ বার। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল ইতিহাসে যা এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পেরেছে মাত্র ৭ টি দল। এর মধ্যে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ সর্বোচ্চ দুই বার করে ট্রেবল জয় করেছে।

২০০৯ সালে পেপ গার্দিওলা ও ২০১৫ সালে লুইস এনরিকের অধীনে বার্সেলোনা প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে ২য় বারের মত ট্রেবল জয়ের এক বিরল কীর্তি অর্জন করে।

ইউরোপের দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০১৩ সালে ইয়ুপ হেইঙ্কসের অধীনে প্রথম ও হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে ২য় বারের মতো ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার পর ট্রেবল জয় করে বায়ার্ন মিউনিখ।

এর আগে ১৯৬৭ সালে সেল্টিক সর্বপ্রথম ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জেতে। এরপর আয়াক্স ১৯৭১-৭২ মৌসুমে, পিএসভি ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে এবং ইন্টার মিলান ২০০৯-১০ মৌসুমে ট্রেবল জিতে নেয়।

এক নজরে ট্রেবল জয়ী সাত ক্লাবের আদ্যোপান্ত…

বায়ার্ন মিউনিখ (২০১২-১৩, ২০১৯-২০)

এফসি বায়ার্ন মিউনিখ জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের রাজধানী মিউনিখে অবস্থিত। ফুটবলের ইতিহাসে সফলতম দলগুলোর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ অন্যতম। বায়ার্নের হোম ভেন্যু অ্যালিয়াঞ্জ এরিনা, যার ধারণ ক্ষমতা ৭৫ হাজার।

ট্রেবল-
২০১২-১৩ মৌসুমে ইয়ুপ হেইঙ্কসের অধীনে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ট্রেবল জিতে জার্মান জায়ান্টরা। লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে সেবার লিগ জিতে নিয়েছিল ফ্র্যাংক রিবেরি-আরিয়েন রোবেনদের বায়ার্ন। ডিএফপি পোকাল ফাইনালে রোবেন, রিবেরিরা ভলফসবুর্গকে হারায় ৩-২ গোলে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সেলোনাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বায়ার্ন মুখোমুখি হয় আরেক জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ডের। রোবেনের শেষ মুহূর্তের গোলে ফাইনালও জিতে নেয় ২-১ গোলে। এখন পর্যন্ত সর্বশেষ ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জেতা দল বায়ার্ন।

আর গত নভেম্বরে বাভারিয়ানদের দায়িত্ব নিয়েই হেইঙ্কসের কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন ফ্লিক। এবার সাত ম্যাচ হাতে রেখেই বুন্দেসলিগা জিতে নিয়েছিল বায়ার্ন। বেয়ার লেভারকুসেনকে হারিয়ে পোকাল কাপের শিরোপা ঘরে তোলে ক্লাবটি। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে তো রীতিমত ইতিহাস গড়ে প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের তকমাটিও নিজেদের করে নেয় এই জার্মান গোল মেশিন। আর তাতেই বার্সেলোনার পর ইউরোপিয়ান ক্লাব ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেবল জয় করে বাভারিয়ানরা।

ইন্টার মিলান (২০০৯-১০)


ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের ডাকনামও তিনটি— নেরাজ্জুরি লা, বেনেয়ামাতা ও ইল বিশওনে। ইন্টার মিলান প্রতিষ্ঠিত হয় ৯ মার্চ ১৯০৮ সালে। তাদের হোম ভেন্যু সান সিরো, যার ধারণ ক্ষমতা ৮০,০১৮।

ট্রেবল-
বার্সেলোনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রেবল জয়ের পরের বছরই বিশ্ব দেখে নতুন ট্রেবলজয়ী ক্লাব। ইতিহাসে এর আগে ব্যাক টু ব্যাক দুটি টিম কখনই এই নজির এর আগে স্থাপন করতে পারেনি। মরিনহোর অধীনে সেবার রোমা থেকে দুই পয়েন্ট বেশি পেয়ে ‘স্কুডেট্টো’ ঘরে তোলে ‘নেরাজ্জুরি’রা। একই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই কোপা ইতালিয়াতে ১-০ গোলে ডাবল পূরণ করে তারা।

ত্রিমুকুটের লক্ষ্যে চ্যাম্পিয়্স লিগ জিততে ইন্টার মিলানকে সেই সময়ের আরাধ্য বার্সেলোনার মুখোমুখি হতে হয় সেমিফাইনালেই। কিন্তু মরিনহো ট্যাকটিকসে ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতে ফাইনালে চলে যায় জায়ান্ট ইন্টার মিলান। ফাইনালে দিয়েগো মিলিতোর জোড়া গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ট্রেবল জিতে নেয় মরিনহোর শিষ্যরা।

বার্সেলোনা (২০০৮-০৯ ও ২০১৪-১৫)

হুয়ান গাম্পার নামক এক ভদ্রলোকের নেতৃত্বে ১৮৯৯ সালে একদল সুইস, ইংরেজ ও কাতালান নাগরিক দলটি প্রতিষ্ঠা করে। ক্লাবটি কাতালান সংস্কৃতির একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মূলমন্ত্র হলো “Més que un club” (একটি ক্লাবের চেয়েও বেশি)। এছাড়া ক্লাবের একটি অফিসিয়াল থিম সংও রয়েছে, যার শিরোনাম ‘‘কান্ত দেল বার্সা’’। যার স্রষ্টা জাইমা পিকাস এবং ইয়োসেপ মারিয়া এস্পিনাস। বার্সেলোনা ক্লাবের নির্দিষ্ট কোন মালিকানা নেই, বরং সমর্থকরাই এর মালিকানা বহন করে এবং তারাই এর পরিচালক। বার্সেলোনার হোম ভেনু ক্যাম্প ন্যু যার ধারণ ক্ষমতা ৯৯,৩৫৪। ফুটবলের ইতিহাসে সফলতম দলগুলোর মধ্যে একটি বার্সেলোনা।

ট্রেবল-
বার্সেলোনাই একমাত্র ইউরোপীয় ক্লাব, যারা ১৯৫৫ সালের পর থেকে প্রতিটি মৌসুমেই মহাদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে এবং অ্যাথলেটিক বিলবাও ও রিয়াল মাদ্রিদের মত তাদেরও কখনও লা লিগা থেকে নিচের বিভাগে অবনমন ঘটেনি।

২০১৯-২০ মৌসুমের আগে পর্যন্তও ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে একমাত্র ক্লাব হিসেবে দুইবার ত্রিমুকুট অর্জন করে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ক্লাবের ইতিহাসে পেপ গার্দিওলার অধীনে প্রথমবার জিতে নেয় কাতালুনিয়ারা। তৎকালীন টিকিটাকার ছন্দে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তারা মিলে ক্লাবকে এনে দেন এই সর্বোচ্চ সাফল্য। এক দশক আগের সেই বার্সেলোনা দলকে অনেকেই সর্বকালের সেরা ক্লাব দল হিসেবে মেনে নেন।

প্রথমবার ত্রিমুকুট জয়ের অর্ধযুগ পর কিউলরা আবারও জিতে নেয় ট্রেবল, যা তখন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ক্লাব ইতিহাসে আর কোনো ক্লাব করে দেখাতে পারেনি। এমএসএন ত্রয়ীতে বার্সেলোনা জিতে নেয় মেজর তিনটি শিরোপাই। সেবার দুই পয়েন্টের ব্যবধানে লা লিগা জেতার পাশাপাশি কোপা দেল রে ফাইনালে তারা অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারায় ৩-১ গোলে। আর অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া জুভেন্টাসের সাথে ম্যাচটি জিতে নেয় ৩-১ গোলে।

উল্লেখ্য, ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে সেক্সটাপল জয়ী ক্লাব বার্সেলোনা। লা লিগা, কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ সুপার কোপা, উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় তারা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১৯৯৮-৯৯)

ফুটবল বোদ্ধাদের কাছে ‘রেড ডেভিল’ নামে খ্যাত বিশ্বখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বেশিরভাগের মতে, এই ক্লাবের ডাকনামের উৎপত্তি ঘটেছে ফার্গির আমলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডেভিল মনোভাবের জন্যই। আদতে এই নামের ইতিহাস ঘাটতে হলে আমাদের যেতে হবে আরও পেছনে। অন্য কোনোদিন এই নামের ইতিহাস নিয়ে লেখা যাবে। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়াও বেলজিয়াম, বেলারুশ ও কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দলও এই নামে পরিচিত।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একটি ইংলিশ ঐতিহ্যবাহী ক্লাব যাদের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নিজস্ব মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ফুটবল গ্রাউন্ড, যা গ্রেটার ম্যানচেস্টারে অবস্থিত। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ৭৪,১৪০। সারা বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফুটবল দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

ট্রেবল-

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে শিরোপাশূন্য থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে আসে একপ্রকার আন্ডারডগ হিসেবেই। আন্ডারডগ হিসেবে খেলেতে এসেই বাজিমাত। একমাত্র ইংলিশ ক্লাব হিসেবে মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা একমাত্র ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

মৌসুমে পুরো প্রিমিয়ার লিগে জুড়ে আর্সেনালের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ দিনে এক পয়েন্টের ব্যবধানে শিরোপা জিতে নেয় অ্যালেক্স ফার্গুসনের শিষ্যরা। অন্যদিকে, এফএ কাপে লিভারপুল, চেলসি ও আর্সেনালের মতো নামজাদা ক্লাবগুলোকে হারিয়ে ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয় নিউক্যাসলের। সেখানে ২-০ গোলের সহজ জয়ে এফএ কাপের শিরোপাও জিতে নেয় রেড ডেভিলরা।

অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে তো সেবার রূপকথারই জন্ম দেয় রেড ডেভিলরা। সেমিফাইনালে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগে ৪০ মিনিট আগ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেই ম্যাচ ৪-৩ গোলে জিতলেও নিজেদের আসল চমক জমিয়ে রেখেছিল ফাইনালের জন্য। বায়ার্নের বিপক্ষে ১-০ পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচটি জিতে নেয় অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে। আর তাতেই প্রথম ইংলিশ দল হিসেবে ট্রেবল শিরোপাও নিশ্চিত হয় তাদের।

পিএসভি আইন্দহোভেন (১৯৮৭-৮৮)

পিএসভি আইন্দহোভেন বা পিএসভি একটি ডাচ ক্লাব। যার ডাকনাম বুরেন, লাম্পেন ও রুড-ভিতেন। নাম গুলোর অর্থ কৃষক, লাইটবাল্ব ও লাল এবং সাদা। ১৯১৩ সালের ৩১ আগস্ট ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পিএসভির হোম ভেন্যু আইন্দহোভেনের ফিলিপস স্তাদিওনয় স্টেডিয়াম। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৩৫,০০০। পিএসভিও আয়াক্সের মত নেদারল্যান্ডের অন্যতম সেরা তিনটি ক্লাবের মধ্যে একটি।

ট্রেবল-
ইউরোপে প্রথম এবং দ্বিতীয় ট্রেবল জয়ের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ যেনো জিততেই পারছিলো না এই আরাধ্য ত্রিমুকুট। অবশেষে আয়াক্সের ট্রেবল জয়ের দীর্ঘ দেড় দশক পর সুযোগ আসে আরেক ডাচ ক্লাব পিএসভি এইন্থোভেনের। ক্লাব ইতিহাসে নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ট্রেবল জয়ের ১৬ বছর পর মুকুট উঠে পিএসভির মাথায়। কিংবদন্তি কোচ গাস হিডিঙ্ক ও আইকনিক খেলোয়াড় ও বর্তমান বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোম্যান, এডওয়ার্ড লিন্সকেন্সের রসায়নে আরাধ্য সাধন করে এই ডাচ ক্লাব।

লিগে নয় পয়েন্টের ব্যবধানে শিরোপা জিতে নেওয়া পিএসভি ঘরোয়া কাপেও রোডা জেসিকে হারায় ৩-২ গোলে। সেবার শুধু লিগেই পিএসভি আইন্দহোভেন বল জালে জড়ায় ১১৭ বার। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান কাপে গ্যালাতাসারাই, ভিয়েনা, বোর্দো, রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে তারা ফাইনালে মুখোমুখি হয় বেনফিকার। স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই ম্যাচে ১২০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে বেনফিকাকে ৬-৫ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেয় পিএসভি। এখন পর্যন্ত সেটিই একমাত্র ইউরোপিয়ান কাপ জয় তাদের।

আয়াক্স আমস্টারডাম (১৯৭১-৭২)

আয়াক্স আমস্টাডাম একটি ঐতিহ্যবাহী ডাচ ফুটবল ক্লাব। যার ডাকনাম ডে গোডেনজোনেন, ডে জোডেন, ই লান্সিয়েরি ও লাকি আয়াক্স। নাম গুলোর অর্থ ঈশ্বরের পুত্র, ইহুদি, বল্লমধারী অশ্বারোহী সৈনিক ও ভাগ্যবান আয়াক্স। বিংশ শতাব্দীর একেবারেই শুরুতেই ১৯০০ সালের ১৮ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় আয়াক্স ফুটবল ক্লাব। আয়াক্স তাদের সব হোম ম্যাচ আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ এরিনায় খেলে, বর্তমানে যার ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৫৪,৯৯০। আয়াক্স নেদারল্যান্ডের অন্যতম সেরা তিনটি ক্লাবের মধ্যে একটি, যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাফল্য অর্জন করেতে শুরু করে।

ট্রেবল-
বর্তমানের আয়াক্সের সাথে অবশ্য তৎকালীন আয়াক্সের এতটুকু মিল নেই। সেই সময়ে ইউরোপের অন্যতম সেরা ছিল এই ডাচ ক্লাবটি। ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত টানা তিন মৌসুমেই ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেয় তারা। তবে ট্রেবল জেতে শুধু মাঝের বছরই। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে ইউরোপের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব গড়ে আয়াক্স। ইয়োহান ক্রুইফ, জোহান নিস্কেন্স ও পিট কাইজারের আয়াক্স তখন নিজেদের সোনালি সময়ে। ঘরোয়া কাপ ও লিগ জিতে নেওয়ায় আয়াক্সের সামনে ইউরোপিয়ান ক্লাব জিতে ট্রেবলের মর্যাদা অর্জন করার সুবর্ণ সুযোগ আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে এতটুকু ভুলও করেনি আয়াক্স। ক্রুইফের জোড়া গোলে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রেবল জিতে নেয় ডাচ ক্লাব আয়াক্স।

সেল্টিক (১৯৬৬-৬৭)


স্কটিশ ফুটবল ক্লাব সেল্টিকের ডাক নাম দ্য ভয়স, দ্য সেল্টস, দ্য হুপ্স। ১৮৮৭ সালের ৬ নভেম্বর সেল্টিক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। সেল্টিকের নিজস্ব মাঠ সেল্টিক পার্ক, যার ধারণক্ষমতা ৬০,৮৩২। এটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্বিতীয় বৃহত্তম ক্লাব স্টেডিয়াম।

ট্রেবল-
সর্বপ্রথম ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে প্রথমবারের মতো ট্রেবল জেতার সৌভাগ্য অর্জন করে সেল্টিক। বিখ্যাত কোচ জক স্টেইনের অধীনে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের তিনটি শিরোপাই জিতে ট্রেবল জয় করে নেয় স্কটিশ ক্লাবটি। স্কটিশ কাপ জেতার পাশাপাশি লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রেঞ্জার্সের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে লিগ শিরোপা জিতে নেয় জক স্টেইনের শিষ্যরা। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপের মতো কুলীন প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেও ফাইনালে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফল্যের ষোলকলা পূর্ণ করে দলটি।

পুরো মৌসুমে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি কিছু অনন্য রেকর্ডও গড়ে ক্লাবটি। সেই মৌসুমে সেল্টিকের সব খেলোয়াড়ই ছিলেন স্কটল্যান্ডের। একই দেশ থেকে সব খেলোয়াড় নিয়ে আগে কেউ এইরকম সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এমনকি প্রথম বৃটিশ ক্লাব হিসেবেও ইউরোপিয়ান কাপের মুকুট পরে সেল্টিক। পুরো মৌসুমজুড়ে প্রতিপক্ষদের নাস্তানাবুদ করে রেকর্ড ১৯৬টি গোল করে এই ক্লাবটি।

নিউজনাউ/এএস/এমএএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...