আগস্টে ভয়ঙ্কর রূপে আসছে করোনা!

পার্থ প্রতীম নন্দী, চট্টগ্রাম ব্যুরো:
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ শেষে সারাদেশে করোনায় নতুন শনাক্ত কিছুটা কমেছে। সেই সাথে প্রতিদিনই বাড়ছে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা। তবে আগস্টে করোনা আবারো ভয়ংকর রূপ নিতে পারে বলে সাবধান করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে আসন্ন কুরবানির ঈদ করোনা সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের চূড়ান্ত ধাপ পেরিয়ে নিচের দিকে নামছে। দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের চার মাস পর বর্তমানে মোট শনাক্ত এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন। তবে এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন সুস্থ হয়েছেন। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই হাজারের বেশি।

সারাদেশে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টারগুলো করোনা চিকিৎসায় ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুও কমেছে। তবে আসন্ন কুরবানি ঈদ এবং শীত মৌসুম নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগস্ট মাসের শেষে কিংবা সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় সংক্রমণের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকেই!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা নিউজনাউকে বলেন, ‘গত দুইদিন যাবত নতুন শনাক্ত কমছে। এটা ভালো লক্ষণ। তবে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সামনে কুরবানি ঈদে করোনা সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ যদি আসে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।’

গরুর হাটে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর তিনি জোর দেন। তবে বিজ্ঞানীদের নতুন দাবি, ‘বাতাসেও করোনা ছড়ায়’ এই ব্যাপারটা যদি সত্যি হয় তাহলে আসন্ন কুরবানি ঈদে গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও তা কতটা কার্যকর হবে সেই বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টিন ম্যানেজম্যান্টের যুগ্ম ফোকাল পারসন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী নিউজনাউকে বলেন, ‘আমাদের দেশে করোনার সংখ্যাটা একটা জায়গায় স্থবির আছে। মৃত্যুটা ৩০-৪০ আর আক্রান্ত ৩ থেকে ৪ হাজারে মধ্যেই থাকছে। মনে হচ্ছে মহামারির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার এই অবস্থা কবে যে পুরাপুরি ভালো হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নাই।’

তবে আসন্ন ঈদ একটা ভয়ের কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা সবাই যদি সতর্ক না হয়ে ‘চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ী’ এইভাবে চলি তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিয়মিত ব্রিফিং করা হচ্ছে। গরুর হাটগুলোকে নিয়মিত মনিটরিংয়ে রাখার উপর তিনি জোর দেন।

মূল্যবান জীবনের চেয়ে একটা কুরবানির ঈদ কি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিনা সেই প্রশ্ন রেখেছেন চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকলে অনেক আনন্দ উৎসব করা যাবে। আমরা প্রত্যেকেই করোনা সংখ্যার নিয়ন্ত্রক। আমরা চাইলে এই সংখ্যা বাড়বে আবার আমরা না চাইলে এটি কমবে।’

তার ফিল্ড হাসপাতালে আগের চেয়ে রোগী কমেছে উল্লেখ করে ডা. বিদ্যুৎ বলেন, রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে। যদিও জীবিকার্জনে মানুষকে বের হতে হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানায় মানুষ আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়েছেন। সেই সাথে চট্টগ্রামে চিকিৎসাও বেড়েছে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...