অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেখানে বেশি, সেখানেই করোনার প্রকোপ

তাছওয়ার নাফি: দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে করোনাভাইরাসের রোগী যেভাবে বাড়ছে তাতে তীব্র চাপের মধ্যে পড়ছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। দেশে মরণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এরইমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে অর্ধলক্ষ।

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। তারা বলছে, দেশে রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে। এই সংখ্যা বেড়ে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ৮৭ হাজার এবং জুন মাসের শেষের দিকে ১ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছতে পারে।

করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেশে প্রথম সারিতে রয়েছে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা। মোট আক্রান্ত ১৯ হাজার ৩০৫ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, চট্টগ্রাম মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৬২ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা, মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৩৩৩ জন। চতূর্থ স্থানে গাজীপুর মোট আক্রান্ত ১ হাজার ১১৫ জন।

দেখা যাচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেসব এলাকায় বেশি, করোনার আক্রমণও সেখানে তীব্র। দেশের চলমান এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ- এ তিন জোনে ভাগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।

পুরো দেশকে রেড জোন, ইয়োলো জোন ও গ্রিন জোন মার্কিং করা হচ্ছে। যেখানে আক্রান্তের হার বেশি সে অঞ্চলকে রেড জোন ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। যদি কোনও জোন রেড হয়ে থাকে তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর হয়তো রেড হবে।

রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। এরপরই আছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ঢাকার পার্শ্ববর্তী দুই জেলা নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে রয়েছে দেশের সিংহভাগ পোশাক কারখানা। আর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় মাধ্যমই হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্প।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক জানান, করোনার প্রভাবে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। বিগত কয়েকদিনে ২৬ শতাংশ অর্ডার ফেরত এসেছে জানিয়ে আগামী জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হতে পারে বলে ঘোষণা দেন তিনি। তিনি আরো জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোতে ক্যাপাসিটির (সক্ষমতা) ৫৫ শতাংশ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালিয়ে শতভাগ শ্রমিকদের কারখানা রাখা সম্ভব হবে না।

মহামারির এ সময়ে দেশের এতো শ্রমিক যখন কর্মহীন হয়ে পড়বে তখন অর্থনীতির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে? আর লকডাউন আর করোনা আতংকে মানুষ যখন দিশেহারা তখন দেশের বাজারে এই অর্থনৈতিক মন্দা মানুষকে কোন পর্যায় নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...