alo
ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কিউবা বিপ্লবের কিংবদন্তী চে’র মেয়ে ও নাতনী এখন কলকাতায়

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী, ২০২৩, ১২:৫৯ এএম

কিউবা বিপ্লবের কিংবদন্তী চে’র মেয়ে ও নাতনী এখন কলকাতায়
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: কলকাতায় পা রাখলেন চে গুয়েভারার মেয়ে এবং নাতনি। সেখানে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন চে-কন্যা ডাঃ অ্যালেইদা গুয়াভেরা এবং তাঁর কন্যা অর্থনীতিবিদ এস্তেফানিয়া গুয়াভেরা। দি ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ইনকিলাবের সাথে মিশতে চলেছে হাসতা লা ভিক্টোরিয়া সিয়েমপ্রে অর্থাৎ ‘যতক্ষণ না জয়, ততক্ষণ লড়াই।’ কমরেড হয়ে উঠতে চলেছে কমাদান্তে। ছেয়ে গিয়েছে পোস্টার, হোর্ডিংয়ে। গোটা ভিআইপি রোডজুড়ে কিউবা বিপ্লবের কিংবদন্তি চে গুয়েভারার ছবি। যাদবপুর ক্যাম্পাস কিংবা এইট বি চত্বর দেখলে হঠাৎ মনে হতে পারে হাভানার কোনও পাড়া। আর সেসবের সামনেই টুকরো টুকরো ছবিতে থাকছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও।

তাঁদের সংবর্ধনা জানাতে সাজো সাজো রব পড়ে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ স্ট্রি এবং বরানগর আইএসআইতে। চেনা কলকাতার এমন অচেনা পরিবেশে দীর্ঘ ২৫ বছর পরে পা রাখলেন চে গুয়েভারার মেয়ে এবং নাতনি।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ও শনিবার (২১ জানুয়ারি) শহরে এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারা। এদিন কলকাতা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা কর্মসূচিত আছে চে কন্যা এবং নাতনির।

সারা ভারত শান্তি ও সংহতি সংস্থা (এআইপিএসও) এবং ন্যাশনাল কমিটি ফর সলিডারিটি উইথ কিউবা (এনসিএসসি) একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে দুই অতিথিকে দেয়া হবে সংবর্ধনা। ভারত-কিউবা মৈত্রী সুদৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে। এই সব অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বাংলার নামি শিল্পীরা। অ্যালেইদা এবং এস্তেফানিয়া আলোচনা করবেন কিউবার জনমুখী বিকল্পনীতি এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণ-উদ্যোগ নিয়ে। অবশ্যই আলোচনা হবে ভারত-কিউবা মৈত্রী নিয়ে। 

অনুষ্ঠানকে সফল রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে একাধিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা। বৃহস্পতিবার প্রায় রাত জেগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বাইরের এলাকা সাজিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। সেখানে রয়েছে ঠোঁটের কোনে হাভানা চুরুট রেখে চে’র মোহময়ী ছবি থেকে গেরিলা যোদ্ধার পোশাকে বিপ্লবী নেতা। সেসবের মধ্যে থাকছে ভগৎ সিং, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মুজফফর আহমেদদের ছবি।

বেঙ্গালুরুতে সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিআইটিইউ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যালেইদা বলেন, চামড়ার রঙ, সংস্কৃতি এবং মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখতে হবে। আমাদের যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা দরকার তা হলো একে অন্যকে সম্মান করতে পারার ক্ষমতা। 

তিনি বলেন, আমাদের আলাদা মতাদর্শ থাকতে পারে, অথবা ভিন্ন উপায়ে লক্ষ্যপূরণ করতে পারি, কিন্তু এই বিভিন্নতাই সম্মান করতে শিখতে হবে আমাদের। 

সশস্ত্র সংগ্রামে ভরসা রেখে ছয়ের দশকের শেষে কিউবায় বিপ্লব সম্পন্ন করেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা, রাউল কাস্ত্রো, ক্যামিলোরা। অকুতোভয় গ্রানমা জাহাজ এগিয়েছিল যোদ্ধাদের নিয়ে। 

জন্মসূত্রে আর্জেন্তিনীয় এরনেস্তো চে গুয়েভারা বিপ্লবের মূর্ত প্রতীক। কিউবার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি তিনি। 

তার মেয়ে অ্যালেইদা বলেন, আমেরিকার মতো মহাপ্রতাপশালী দেশের সন্নিকটে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সামলে রেখেছে শুধুমাত্র দেশের মানুষের একতার জোরে। বর্তমানে অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে শুধুমাত্র দুই বছরের অতিমারির জেরে।

নিউজনাউ/আরএইচআর/পিপিএন/২০২৩

X