alo
ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডলার সংকট—চট্টগ্রাম বন্দরে তিন জাহাজের ‘রোজার পণ্য’ খালাস বন্ধ

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩, ১১:২৬ পিএম

ডলার সংকট—চট্টগ্রাম বন্দরে তিন জাহাজের ‘রোজার পণ্য’ খালাস বন্ধ
alo

 


চট্টগ্রাম ব্যুরো: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আনা অপরিশোধিত চিনি ও ভোজ্যতেলবাহী তিনটি জাহাজের খালাস আটকে অলস বসে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। জাহাজগুলোতে মেঘনা গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপের প্রায় ৫৪ হাজার টন পণ্য আছে। যার আমদানি মূল্য ৩ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার। ওই তিন জাহাজের শিপিং ডেমারেজ বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৯৪ হাজার ইউএস ডলার গুনতে হবে আমদানিকারকদের।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ব্যাংকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ঋণপত্র খুলে এসব পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু ডলারের অভাবে ব্যাংক মূল্য পরিশোধ করতে পারেনি। এ কারণে বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের অনুমতি দিচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, তিনটি জাহাজের মধ্যে একটি হলো ‘এম টি সুপার ফরটি’। যে জাহাজটি ১২ হাজার টন পাম তেল নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছায়। ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার মূল্যের এই তেল আমদানি করেছে চট্টগ্রামের এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড। 

তবে, জাহাজ আসার পর ৫৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা এলসি মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। 

এদিকে, জাহাজটি থেকে যত দিন পণ্য খালাস হবে না, তত দিন জরিমানা দিতে হবে আমদানিকারককে। সে হিসেবে, প্রতিদিনের জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ডলার। ৫৫ দিনে যার পরিমাণ দাঁড়া ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সোয়া ৯ কোটি টাকারও বেশি।

দ্বিতীয় জাহাজটির নাম ‘এম ভি কমন এটলাস’। যেটি ব্রাজিল থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টন চিনি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায় ৫ জানুয়ারি। জাহাজটি থেকে ২৩ হাজার ৬৫০ টন চিনি খালাস হলেও বাকি পণ্যের খালাস বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ডলার সংকটে ঋণপত্রের বিপরীতে আমদানি দায় পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারায় বন্ধ হয়ে আছে। ফলে, আমদানিকারককে প্রতিদিন ৪০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে এর বিপরীতে। জরিমানার পরিমাণ ৮ দিনে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারে। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকায়।

এদিকে, ব্রাজিল থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে বন্দর জলসীমায় ৬ জানুয়ারি ‘এম টি সোগান’। যার আমদানিকারক বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও মেঘনা অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড। জাহাজটি থেকে বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের তেল খালাস করা হলেও আটকে আছে মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারির পণ্য। জাহাজটিতে প্রতিষ্ঠানটির ৬২ লাখ ডলারের প্রায় ৫ হাজার টন তেল রয়েছে। আমদানিকারকের প্রতিদিনের জরিমানা ৩৮ হাজার ডলার (৪০ লাখ টাকা)। 

জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘রোজায় যাতে কোনো সংকট না হয়, সে জন্য আগেভাগেই পণ্য আমদানির ঋণপত্র খুলেছি। বাংলাদেশি মুদ্রায় পণ্যের দাম পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। খালাস করতে না পারায় জরিমানা বাড়ছে।’

মেঘনা গ্রুপ জানায়, তাদের আমদানি করা চিনিবাহী ‘কমন এটলাস’ জাহাজে প্রতিদিন ৪০ হাজার ডলার এবং সয়াবিনবাহী ‘সোগান’ জাহাজে প্রতিদিন ৩৮ হাজার ডলার ডেমারেজ উঠছে। 

একইভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাম অয়েলবাহী ‘সুপার ফরটি’ জাহাজে প্রতিদিন ১৬ হাজার ডলার ডেমারেজ যোগ হচ্ছে। 

আমদানি কমলে রোজায় সরবরাহ কমবে জানিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বড় গ্রুপগুলো যেখানে আমদানি করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অন্যদের অবস্থা কী তা সহজেই অনুমেয়। আমদানি কমলে রোজায় সরবরাহ কমবে। ইতিমধ্যে চিনি ও গম আমদানি কমার প্রভাব পড়েছে বাজারে। 

ডলার সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সংকট সমাধান করতে পারছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে নিশ্চয়তা দেওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এ জন্য ডলার সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিউজনাউ/আরএইচআর/২০২৩

X