alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় জরাজীর্ণ ঘরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬০০ বাসিন্দা

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২২, ০১:৫৮ পিএম

লোহাগাড়ায় জরাজীর্ণ ঘরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬০০ বাসিন্দা
alo

 

এ. কে. আজাদ, লোহাগাড়া: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জরাজীর্ণ ঘরে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন আধুনগর ইউনিয়নের কুলপাগলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬০ পরিবারের ৬০০ বাসিন্দাদের। তাদের জরাজীর্ণ ঘরগুলো অচিরেই সংস্কার অপরিহার্য মনে করছেন  আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব বসবাসকারীরা। অন্যথায় চলমান শীত মৌসুমের কনকনে শীতে ও সামনের বর্ষা মৌসুমে বড় ধরণের ঝুঁকিতে বসবাস করার আশংকা প্রকাশ করছেন তারা। 

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ভুক্তভোগী বাসিন্দা লাকী আক্তার জানান, ঘরের ছাউনির টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে ছাউনির টিনগুলোতে। বর্ষা মৌসুমে সেসব ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতর টপ টপ করে পড়ে বৃষ্টির পানি। বর্তমানে ঠান্ডায় রাতে ঘুমাতে পারি না।

এ প্রকল্পে বসবাসকারী লোকজন জানান, বর্ষায় অধিক বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে টিনের উপর বড় আকারের পলিথিন ব্যবহার করা হয়। তাও কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয় না। সে সব পলিথিনও অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে যায়। ছাউনির টিনগুলো এক প্রকার বসে গেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বেড়াও টিনের। খুঁটি থেকে বেড়ার টিনগুলো খুলে যাচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প নিমার্ণের সময় প্রতি ঘরে স্থাপন করা হয়েছিল ছোট আকারের তিনটি করে পাকা খুঁটি। সে খুুঁটিগুলো ফেটে যাচ্ছে। খসে পড়ছে। এ ছাড়াও তাদের আরও কঠিন সমস্যা হলো সুপেয় পানির। আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের সময় ৬০ পরিবারের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল ৬টি অগভীর নলকূল। এর মধ্যে ৫টি নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের কুলপাগলী এলাকার খাস খতিয়ানভুক্ত একটি পাহাড়ে ছয়টি ব্যারাকে ৬০ পরিবারের জন্য বসতি স্থাপন করা হয়। প্রতি ব্যারাকে ১০টি করে পরিবারের জন্য ঘর রয়েছে। সহায় সম্বলহীন ৬০ পরিবারের লোকজনের বসবাসসহ চলাচলের জন্য এ পাহাড়ে রয়েছে অন্তত ৬ একর জায়গা। এ ৬০ পরিবারের কারও নামে জায়গা দলিল হয়নি। বন্দোবস্তিও দেয়া হয়নি পরিবারের কর্তাদের নামে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাহাড়ের আশ-পাশে যে সব খাস জায়গা রয়েছে তাও দখল করে ফেলেছে প্রভাবশালীরা। 
ফলে এখানকার বসবাসকারীরা মৌসুমী কোনো শাক-সবজি উৎপাদন করতে পারছে না।

বিগত ২০০০ সালে এ আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। এ অবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের বসতঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
এছাড়াও গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থারো জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।  

এ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো : শরীফ উল্যাহ্‌ নিউজনাউকে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা ও ঘরগুলোর মালিক বাসিন্দারাই। তাদের ঘর মেরামত করার কথা। তারপরও এ বিষয়ে সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঘরগুলো মেরামত করে বসবাসের  উপযোগী করে তোলা হবে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X