alo
ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২২, ০১:১৯ পিএম

অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: অভিবাসীদের ঢল সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস অভিবাসীদের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী এই শহরের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়ে।

টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডার মতো রিপাবলিকান পার্টি শাসিত রাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেলে দিচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি শাসিত রাজ্যগুলোতে।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটরদের বৈরী আচরণ ও জো বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসননীতির কারণে ব্যাপকসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র অ্যাডামস বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি বাসে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাঠানো হচ্ছে নিউ ইয়র্ক শহরে। তিনি বলেন, ‘শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতি পাঁচজনের একজন এখন আশ্রয়প্রার্থী।’

‘আগত অনেক পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়গামী সন্তান রয়েছে, যাদের জরুরি চিকিৎসা ও বিশেষ যত্নের অতি প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেক্সাসে আসা দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে রাজ্যের গর্ভনর রিপাবলিকার নেতা গ্রেগ অ্যাবোটের নির্দেশে দুটি বাসে করে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে পাঠানো হয়। ছবি: রয়টার্স

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেল সরকারের কাছে চলতি অর্থবছরে এক বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বাজেট দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।

‘নিউ ইয়র্কের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ,’ উল্লেখ করে মেয়র অ্যাডামস বলেন, ‘আমিও ক্ষুব্ধ। আমরা এমনটি চাইনি। হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে সহায়তা ও আশ্রয় দেয়ার কাজ নেয়ার জন্য কখনোই কোনো চুক্তি হয়নি এবং এমন দায়িত্ব নিতে আমরা দ্বায়বদ্ধ নই।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘শহরটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বরাদ্দ তহবিল ফুরিয়ে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ সামর্থ্য মতে যা করতে পারে তা করছে, কিন্তু সহযোগিতা করার সামর্থ্য এখন আমাদের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

অভিবাসী নিয়ে অন্যদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কারণে শহরের সামাজিক পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যোগ করেন তিনি।

তিন রাজ্য টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ডেমোক্রেটিক পার্টি নেতৃত্বাধীন এলাকায় বাসে করে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে রিপাবলিকান মেয়রদের দাবি, জো বাইডেনের অবাস্তব অভিবাসননীতির দায় শুধু সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো নেবে না। দায় এড়াতে পারে না ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কও।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনের সামনে দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জড়ো করা হয়ে।

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেক্সাসে আসা এই অভিবাসনপ্রত্যাশীকে রাজ্যের গভর্নর রিপাবলিকান নেতা গ্রেগ অ্যাবোটের নির্দেশে দুটি বাসে করে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে পাঠানো হয়। রিপাবলিকান এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অভিবাসন সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এমনভাবে অভিবাসীদের পাঠানো অব্যাহত থাকবে।

অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে বেকায়দায় থাকা ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সরকারকে এক হাত নিতে এসব করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা, এমন দাবি বাইডেন-কমলা সরকার সমর্থক অনেকের।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X