মানুষকে রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  করোনাভাইরাসের সংকটময় এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যেকোনও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেশের মানুষকে এই প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আগে দেয়া এই ভাষণের বেশির ভাগজুড়েই ছিল করোনার সংক্রমণে নেয়া সরকারের পদক্ষেপের কথা। জনগণের প্রতি নানা সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস শনাক্ত, মানুষ ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও চিকিৎসা প্রস্তুতিরও বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন তিনি। রেডিও-টেলিভিশনে একযোগে প্রচার করা হয় তার এই ভাষণ।

ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানান জাতীয় ৪ নেতাকে। তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়—সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ংকর ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।’

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা আভাস দিচ্ছেন। বাংলাদেশের ওপরও এই আঘাত আসতে পারে বলে জানান শেখ হাসিনা।

করোনার সংক্রমণ ঠেখাতে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে জনসমাগম এড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে জনস্বাস্থ্যর কথা বিবেচনা করে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসমাগম হয় এমন সব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সব জেলায় শিশু সমাবেশ ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা। এটি এখন বিশ্বের ১৯৫ টির মধ্যে ১৬৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমি সকলের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু এই সংকটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যত দূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনাভাইরাস-আক্রান্ত থেকে ফিরেছেন এমন প্রবাসীদের প্রতি তার অনুরোধ, মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়াপ্রতিবেশী, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। আক্রান্ত সিংহভাগই কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে, আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। সে জন্য পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিতে হবে।

আতঙ্কের কারণে মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

এসময় তিনি করোনা মোকাবিলায় যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও পর্যাপ্ত মজুত আছে। এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ১৩ হাজার কিট মজুত ছিল। আরও ৩০ হাজার কিট শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে। ঢাকায় ৮টি পরীক্ষা যন্ত্র আছে। আরও সাত বিভাগে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ চলছে। এসময় তিনি গুজবে না জড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ