বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে উদ্বিগ্ন ভারত

নিউজনাউ ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দু মোমেনের সাথে পাকিস্তানি হাই কমিশনার আহমেদ সিদ্দিকীর বৈঠকে উদ্বিগ্ন ভারত। ১ জুলাই তাদের সাক্ষাতের পর এখনো পর্যন্ত গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মন্ত্রী কিছু না বলায় সন্দেহ ও শংকা আরো তীব্রতর হচ্ছে। দ্য টেলিগ্রাফ, ভারত প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ভারতের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঘাটতি অনেক পুরনো। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কও পুরনো। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছিলো পাকিস্তানের কাছ থেকে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো গেলেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার দায়ে পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতকে দেশে পাঠানোর পর ফের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

অপরদিকে পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনের সাথেও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঘাটতি রয়েছে। রয়েছে সীমান্ত সংক্রান্ত অসন্তোষ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত অনেক বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করে। সে কারণে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের বৈঠক নিয়ে উগ্বিগ্ন।

টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, এর আগে পাকিস্তানি দূতরা কেবলমাত্র কয়েকবারেই আমাদের সিনিয়র অফিসারদের সাথে দেখা করতে পারতো, যেখানে তারা তাদের কিছু উন্নয়ন প্রসঙ্গে আলোচনা করতেন।

তবে ১ জুলাইয়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোন বিবৃতি না দিলেও পাকিস্তান হাই কমিশনার টুইটারে একটি ছবি শেয়ার করেছেন এবং একটি তুর্কি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, তিনি দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নতি আশা করেছেন।

এই সংবাদপত্রটি আবদুল মোমেনের বক্তব্য প্রকাশ করেনি। ঢাকার এক কর্মকর্তা ফোনে সংবাদ সংস্থাকে বলেছিলেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো। কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের হাই কমিশনার মন্ত্রীর সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে, ভারত-চীন সীমান্তে কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে । চীন বাংলাদেশি পণ্যগুলিতে শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলির জন্য তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য চিকিত্সা সরবরাহ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈঠক হওয়ায় তা দিল্লির জন্য উদ্বেগজনক। দিল্লির দাবি এখন পাকিস্তান বাংলাদেশে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ঢাকায় পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের দাবি বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী একটি চক্র সক্রিয় হচ্ছে যা একজন ব্যবসায়ীর নেতৃত্বাধীন। সেই ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়েছেন এবং তার কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি অংশকে বেছে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ে একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, যদি বিষয়গুলো এই গতিতে একটি নতুন আকার ধারণ করে, তবে আমাদের দেশে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হবে এবং এটি অবশ্যই ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...