বজ্রপাতে দশ জেলায় ২০ জনের মৃত্যু

নিউজনাউ ডেস্ক:

বজ্রপাতে একদিনে দেশের দশ জেলায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার চারজন, হবিগঞ্জের তিনজন, ময়মনসিংহে তিনজন, পাবনা,কুষ্টিয়া ও টাঙ্গাইলে দু’জন করে এবং নোয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও জয়পুরহাটে একজন করে মারা গেছেন। বুধবার (০৩ জুন) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

নিউজনাউ এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধারা হলো-

বগুড়া

বগুড়ার ধুনট, কাহালু ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় বজ্রপাতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। দুপুর থেকে বিকেলে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের দেওড়িয়া গ্রামের দেরাস আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চরকুড়িপাড়া গ্রামের বুলু মণ্ডলের ছেলে লেবু মণ্ডল (৩৫), কাহালু উপজেলার এরুইল গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে মোকলেছার রহমান। আরেক জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ও কাহালুর মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম পৃথক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জ

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে হবিগঞ্জে বাহুবল ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তিন কিশোর মারা গেছে। নিহতরা হলো বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের নোয়াঐ গ্রামের দরদ মিয়ার ছেলে ওরখাইদ (১১) ও সাতকাপন ইউনিয়নের মানিকা গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে নছর উদ্দিন (১৭) এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নয়ানগর গ্রামের সমর আলীর ছেলে লিলু মিয়া (১৬)।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও আজমিরীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছে দুই কিশোরসহ তিনজন। বৃহস্পতিবার বিকালে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে উপজেলার আছিম-পাটুলী ও কালাদহ ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, বৃহস্পতিবার বৃষ্টি শুরু হলে এ সময় বজ্রপাতে আছিম-পাটুলী ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে কৃষক মোতালেব (৬০) মারা যান। এ সময় তিনি গোসল করছিলেন। এদিকে একই ইউনিয়নের রামনগড় গ্রামের মোফাজ্জলের হোসেনের ছেলে রবিন (১৩) বাড়ির পাশে বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়। এছড়াও কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ পূর্বপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর কিশোর ছেলে ইমরান (১৭) বাড়ির পাশের খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়।

পাবনা

পাবনায় বজ্রপাতে কলেজছাত্রসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার তেলিগ্রামের নূরুজ্জামান মোল্লা (১৯) ও সুজানগর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের আ. জলিল (৫০)।

কলেজছাত্র নূরুজ্জামান ওই গ্রামের আলতাফ মোল্লার ছেলে। আর আ. জলিল ওই গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আতাইকুলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম এবং সুজানগরের শান্তিপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দু’জন নিহত হয়েছেন। বিকেলে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে ঘটেছে।

নিহতরা হলেন- সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামের হামিদুল মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৩০) ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে শফি মন্ডল (৪৫)।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, দুপুরে গরু চরাতে পদ্মার চরে যায় ফারুক। তার একটু পরে আকাশে ঘনকাল মেঘ লাগে এবং বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এরমধ্যে বিকালে গরু চরানো অবস্থায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, অন্যদিকে নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মাঠ থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক শফি মন্ডলের মৃত্যু হয়।

নোয়াখালী

দুপুরে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বজ্রপাতে রফিক উল্যাহ (৩৮) নামের এক মাটি কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রফিক সুবর্ণচর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য চরবাটা গ্রামের গুল্লালাগো বাড়ির মৃত শফি আলমের ছেলে।

হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে পাপিয়া বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত পাপিয়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নের চর পাকা গ্রামের হেরাস উদ্দীনের স্ত্রী।

জনপ্রতিনিধির বরাত দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রসহ দুইজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকায় স্কুলছাত্র মো. অনিক (১৫) মারা যায়। অনিক ওই এলাকার মো. আইয়ুব মিয়ার ছেলে ও ধরেরবাড়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হক বলেন, বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে মা-বাবার সঙ্গে অনিক তাদের খড় শুকাচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই অনিক লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে  বুধবার রাতে জেলার ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের বগাজান গ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।  আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান জানান, উপজেলার বগাজান গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মোহাম্মদ জামাল মিয়া (৫০) বুধবার রাতে বৃষ্টির ডাক শুনে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে খড়ের পালা দিতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হয় এবং হঠাৎ তার উপর বজ্রপাত পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

জয়পুরহাট

বিকেলে জেলার সদর উপজেলার পারুলিয়া গণকবাড়ী গ্রামে বজ্রপাতে সুকমল চন্দ্র (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কৃষক সুকমল বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে গোসল করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

যশোর

যশোরের মণিরামপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত দীপ্ত বৈরাগী (২২) উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হাটগাছা গ্রামের ব্রজেন বৈরাগীর ছেলে।

নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সৈয়দ বখতিয়ার হোসেন বলেন, দীপ্ত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িরপাশে বিলের মধ্যে মাছের ঘেরে কাজ করতে যায়। কাজ শেষে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কেটে দুপুর ২টার দিকে নৌকায় বাড়ি ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। পথিমধ্যে বজ্রপাতে নৌকার উপরে তার মৃত্যু হয়।

নিউজনাউ/ এম এইচ/ ২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...