দেশে এখনো নিরক্ষর প্রায় ৬ কোটি 

নিউজনাউ ডেস্ক: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উদযাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য-‘কোভিড-১৯ সংকট: সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’।

এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সরকারিভাবে দিবসটি উদযাপনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে অন্যান্য বছর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়ে থাকে। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার সেটি বাতিল করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ। এই হারে সাক্ষরতা বাড়তে থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছাতে লাগবে আরও প্রায় ৩২ বছর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখনও নিরক্ষর ৪ কোটি মানুষ।

সাক্ষরতা নিয়ে বর্তমানে সরকারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু এই কাজের জন্য এনজিও বাছাইয়ে দুর্নীতি, নির্বাচিত এনজিওগুলোর কাজের জবাবদিহিতায় রহস্যজনক উদাসীনতা ও সার্বিকভাবে কাজের ধীরগতির কারণে লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। অপরদিকে সাক্ষরতার হার নিরূপণে গত একদশকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই। এসডিজির ৪ (৬.১) নম্বর অনুচ্ছেদে সাক্ষরতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংজ্ঞা অনুযায়ী সাক্ষরতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীর সমমানের হতে হবে। ইউনেস্কোর বৈশিষ্ট্য পূরণ করে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ক্যাম্পে একটি সমীক্ষা করেছে। সেটির তথ্যানুযায়ী দেশে সাক্ষর মানুষ ৫১.৩০ শতাংশ।

দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮০ লাখ। উল্লিখিত সাক্ষরতার হার মেনে নিলে সরকারি হিসাবেই দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনও নিরক্ষর। আর ২০১৬ সালের পর প্রতিবছর দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লে এটা আর বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। এরপরও বেসরকারি হিসাবে সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশের বেশি নয় বলে মনে করা হয়। সেই হিসাবে নিরক্ষর মানুষ ৫ কোটি ৮৮ লাখের বেশি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে নিজস্ব অর্থে ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবনদক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এটির মেয়াদ আছে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অধীন ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার জন্য একটি প্রকল্প আছে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মুজিববর্ষে আমরা ২১ লাখ নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষর করার কর্মসূচি নিয়েছি। এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাবো।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...