alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চেক ডিজঅনারের মামলা নিয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত ব্র্যাক ব্যাংকের

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:৩৩ এএম

চেক ডিজঅনারের মামলা নিয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত ব্র্যাক ব্যাংকের
alo

 


নিউজনাউ ডেস্ক: ঋণের বিপরীতে গ্রহণ করা চেক দিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের আইনজীবী সাইফুজ্জামান।

তিনি জানান, হাইকোর্টের এই রায়ে দেশের সব ধরনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (অ্যাফেক্টেট) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য আমরা সিএমপি (ক্রিমিনাল মিসসেলনিয়াস আপিল) করব। রায়ের লিখিত আদেশ প্রকাশের আগে এই সিএমপি ফাইল করা হয়ে থাকে।

এর আগে বুধবার (২৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

রায়ে ঋণ আদায়ের জন্য ব্যবসায়ীর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে করা ব্র্যাংক ব্যাংকের চেক ডিজঅনার মামলা বাতিল করেন আদালত।

এ রায়ের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনারের মামলা করতে পারবে না। তবে অর্থঋণ আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে মোহাম্মদ আলীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী। তার সঙ্গে ছিলেন ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী, আইনজীবী কায়েদে আজম ইকবাল, আইনজীবী শাহীনুর রহমান ও আইনজীবী আছাদুজ্জামান। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুজ্জামান।

রায়ের পর আইনজীবী আব্দুল্লা আল বাকী বলেন, এ রায়ের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনারের মামলা করতে পারবে না। তবে অর্থঋণ আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা করতে পারবেন। দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো চেকের মামলা আছে। সবগুলো মামলা স্থগিত হয়ে গেল।

রায়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধুমাত্র ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমানে দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে গ্রহণ করা চেক দিয়ে যেসব মামলা করা হয়েছে সেসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

রায়ে আপিলকারীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ঋণ হিসেবে নেওয়া মোট টাকার ৫০ শতাংশ আগামী ১০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে বলেছেন আদালত। এছাড়া প্রতিটি ঋণের বিপরীতে ইনস্যুরেন্স করতে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের সব আদালতকে ঋণের বিপরীতে চেকের মামলা আমলে না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ একটি চুক্তির মাধ্যমে নেওয়া হয়ে থাকে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ, অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে, তাদের হিডেন এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেকের অপব্যবহার করে মামলা করে থাকে। তাদের ব্যবহার দাদন ব্যবসায়ীদের মতো।

আদালত বলেন, ঋণের বিপরীতে ব্ল্যাংক চেক নেওয়াটাই বেআইনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি কাজ করে আসছে।

আদালত বলেন, ব্যাংক হওয়ার কথা ছিল গরিবের বন্ধু, কিন্তু তা না হয়ে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গরিবের রক্ত চুষছে। এটা হতে পারে না। যারা হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হচ্ছে ব্যাংক তাদের ঋণ মওকুফ করার কথা শুনি। কিন্তু কোনো গরিবের ঋণ মওফুফ করার কথা কোনোদিন শুনিনি।

নীলকর চাষিদের মতো, দাদন ব্যবসায়ীদের মতো যেনতেন ঋণ আদায় করাই তাদের লক্ষ্য। লোন আদায়ের জন্য অর্থঋণ আইনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা দায়ের না করে চেক ডিজঅনার মামলা করছে। এ কারণে আমাদের ক্রিমিনাল সিস্টেম প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে। তাই এখন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে। অন্যকোনো আইনে নয়।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নির্দেশনা জারি করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X