alo
ঢাকা, সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কাবিননামায় কুমারী শব্দ থাকা অপমানজনক: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:৩৬ এএম

কাবিননামায় কুমারী শব্দ থাকা অপমানজনক: হাইকোর্ট
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: মুসলিম বিয়ের কাবিননামার ৫ নম্বর কলাম থেকে ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দিতে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ‘কাবিননামায় কুমারী শব্দ থাকা নারীর জন্য অপমানজনক, বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংবিধান ও সিডও সনদের (বৈষম্য বিলোপ সনদ) পরিপন্থি।’ 

ছয় মাসের মধ্যে কাবিননামার ফরম থেকে ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে ওই রায় দেওয়া হয়।

অনুলিপিতে রায় প্রদানকারী দুই বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ স্বাক্ষরের পর ৩২ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। 

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট ৫ নম্বর কলাম থেকে কনের ক্ষেত্রে ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘অবিবাহিত’ শব্দ প্রতিস্থাপন করতে এবং ৪ নম্বর কলামে ‘ক’ উপকলাম নতুন করে যুক্ত করে সেখানে বরের ক্ষেত্রে বিবাহিত, বিপত্নীক ও তালাকপ্রাপ্ত শব্দ সংযোজন করতে নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই রায় দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছিল।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, নিকাহনামার ২১ ও ২২ নম্বর দফায় বরের বর্তমানে কোনো বিয়ে বলবৎ আছে কিনা, শুধু সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বর তালাকপ্রাপ্ত বা বিপত্নীক অথবা কুমার কিনা, এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ৫ নম্বর দফায় কন্যা তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা কিনা, পাশাপাশি কন্যা আগে কোথাও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন কিনা—এ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা অপমানজনক, বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংবিধান ও সিডও সনদের পরিপন্থি। এ ধরনের তথ্য চাওয়ার বিধান সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষায় এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারীর ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার অধিকার ক্ষুণ্ন করে।

রুলের ওপর শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো শর্ত নেই।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X