সদরঘাটে নতুন গ্যাংয়ের উৎপাত, নেতৃত্বে কায়সার

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকায় উঠতি এক কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে চরম ভাবে। বেশ কিছুদিন ধরে গজিয়ে ওঠা এই কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

জনৈক আবু কায়সারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ঘাট দখল, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অভিযোগ।

অভিযোগ আছে নিজেকে প্রজন্মলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আবু কায়সার স্থানীয় টোকাইদের নিয়ে এই গ্যাং গড়ে তোলেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে রাতারাতি হয়ে উঠেছে কোটি টাকার মালিকও।

স্থানীয় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, সদরঘাটে নৌরুটে মাদকের চালান ও খালাসের পথ তৈরি করেছেন আবু কায়সার। সন্দ্বীপ–হাতিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলদস্যুতায় রয়েছে তার মদদ। নগরীর সদরঘাট নৌরুট থেকে বিআইডব্লিউটিসি পর্যন্ত সড়কের এক পাশ দখল করে গড়ে তুলেছেন ভাসমান দোকান। এছাড়া তার নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন মালামাল ও টাকা–পয়সা ছিনতাই নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। মাঝিরঘাট থেকে চালান হওয়া ও খালাস হওয়া নৌ জাতীয় দ্রব্য এবং জিনিসপত্র চুরির সাথে জড়িত তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাং। তারা বিভিন্ন অপকর্মে অপরাধীদের অস্ত্র সরবরাহের কাজেও জড়িত। সদরঘাট লাইটার জেটিতে রয়েছে তার নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম। কর্ণফুলীতে মাছ ধরার জাহাজ, লাইটার জাহাজের পণ্য খালাসকারী কেউ তার কাছে নিরাপদ নয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা ও মাসোয়ারা সংগ্রহে তার বাহিনী সবসময় সক্রিয়। সদরঘাটের গুদাম, দোকান ও জমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে তার বাহিনী আদায় করে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তেল চোরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, এক সময় খুচরা মুরগী বিক্রেতা কায়সার এলাকায় মুরগী কায়সার নামে পরিচিত। ইসলামীয়া কলেজের সাবেক ভিপি খলিলুর রহমান নাহিদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক বিভিন্ন যোগাযোগ তৈরি করে হঠাৎ আলোচনায় আসেন তিনি। অবশ্য খানিকটা গুছিয়ে নেয়ার পর সেই নাহিদের সাথে ঘটিয়েছে ১টি ৫ লাখ ও আরেকটি ১০ লাখ টাকার চেক প্রতারণার ঘটনা। এ ব্যাপারে খলিলুর রহমান নাহিদ তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল ডিমান্ড নোটিশ জারি করেছেন। পাশাপাশি তিনি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে সদরঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর আবু জাফরের ছেলে মাসুদুর রহমান (জিডি নং–৬১৮, তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২০)।

এছাড়াও আবু কায়সারের নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা এসবের প্রতিকার চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.এ লতিফ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছেও।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর রহমান ফারুকী এ প্রসঙ্গে জানান, ‘আবু কায়সারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নানা অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মুঠোফোনে আবু কায়সারের কাছে এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকায় এসে খবর নিয়ে দেখেন কারা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। আমরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছি। খুব সহসাই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএম মোস্তাক আহমদ খান নিউজনাউকে বলেন, ‘আমরা কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিচ্ছি। অনেক এলাকা থেকেই অভিযোগ আসছে। আমরা সব খতিয়ে দেখছি। যাদের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...