শিশু জিহাদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন,গ্রেপ্তার ৪

রংপুর ব্যুরোঃ দেড় মাস পর শিশু জিহাদ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনসহ ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), রংপুর। ক্লুলেস এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন, শিশু জিহাদের বাবা জিয়াউর রহমান (৪১), সৎ মা আলেয়া মনি (১৯) আলেয়া মনি’র বাবা আইয়ুব আলী (৫৫) ও পিকাপ ড্রাইভার ইসমাইল (২৬)। পিবিআই এ হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ওয়াটার হিটার ও পরিবহন কাজে ব্যবহৃত নীল রংয়ের পিকাপ জব্দ করেছে।

মঙ্গলবার পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে একটি তালাবদ্ধ ট্রাংক পরে থাকতে দেখে স্থানীয় পথচারী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ১৬ জুলাই সকালে ট্রাংকটি খুলে বেডশীট ও কাথায় মোড়ানো অবস্থায় একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশটি ঝলসানো ও অর্ধগলিত থাকায় আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করে শিশুটির পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এরপর থেকে পিবিআই রংপুর ক্রাইমসিন সংরক্ষন করে ও সকল বস্তু সাক্ষ্য যথাযথভাবে সংগ্রহসহ ছায়া তদন্ত শুরু করে। সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ক্লুলেস মামলা হওয়ায় গত ২০ জুলাই মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই। দীর্ঘ ১ মাস ১৭ দিন পর শিশু জিহাদের পরিচয়সহ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে জিহাদের বাবাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পিবিআইকে জানায়, জিহাদের সৎ মা আলেয়া মনি এবং তার বাবা এনজিও কর্মী জিয়াউর রহমানের সাথে শিশু জিহাদের বনিবনা না হওয়ায় তারা গত ১৪ জুলাই হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। সেই সাথে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার হিটারের মাধ্যমে পানি গরম করে লাশটিকে বিকৃত করে ফেলে। ১৫ জুলাই সকাল বেলা হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার বাসায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রাংকে জিয়াউর, আলেয়া মনি ও আইয়ুব আলী বেডশীট, কাথায় শিশু জিহাদের লাশ পেঁচিয়ে ট্রাংকে ঢুকায়। আইয়ুব আলী পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে দুটি তালা কিনে ট্রাংকটি তালাবদ্ধ করে এবং ট্রাংকটি অপসারণের জন্য বিরল হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে একটি পিকাপ ভ্যান ১৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে।

পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন আরও জানান, যেহেতু নদী ও বন একত্রে ছিল। তাদের পরিকল্পনায় থাকতে পারে ট্রাংকটি নদীতে ফেলে দিতে পারলে আর হত্যাকারীদের খোঁজ মিলবে না। তারা কোন কারণ বশত ট্রাংকটি নদীতে ফেলতে পারেনি এবং সমতলে ফেলে চলে গেছে। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...