রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা

রংপুর ব্যুরো : স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষনের অভিযোগে রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা হয়েছে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায়। সেই সাথে সহযোগী হিসাবে আরো তিনজনকে আসামী করেছে ধর্ষীতা স্কুল শিক্ষক এক নারী।

ভূক্তভাগী ওই নারী এক মাস চেষ্টার পর অবশেষে শনিবার রাতে মামলা নথীভূক্ত করেন থানার ওসি আব্দুর রশীদ। মামলার বাদী শিক্ষিকাকে নেয়া হয় থানার ভিক্টিম সার্পোট সেন্টারে। সভাপতি রনি ক্যাডারদের হুমকি-ধামকিতে রাতে অসুস্থ হয়ে পরলে শিক্ষিকাকে নেয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এদিকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রনী সমর্থকরা রবিবার থানার সামনে বিক্ষোভ করে।

মামলার এজাহার সুত্র জানা গেছে, নগরীর কেরানীপাড়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সাথে তার মেয়ের পরিচয় ঘটে। রনির বাড়ি রংপুরের পীরগজ্ঞ উপজেলার বাজিতপুর ফতেহপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু বক্কর। পরিচয়ের পর থেকে বন্ধু, পরে মন দেয়া নোয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে গভীর সম্পর্ক কাছে টানে দু’জনকে। স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাতের পর রাত পার করেন আবাসিক হোটেলে।

শিক্ষিকার উপার্জিত কষ্টের ১৮ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রনীর বিরুদ্ধে।এমন ঘটনা ফাঁস হয়ে পরলে চারদিক গুঞ্জন শুরু হয়। কানাকানি থেকে জানাজানি। আত্মসম্মান বাঁচাতে শিক্ষিকা রনীকে বিয়ের চাপ দেয়। কিন্তু ভদ্রবেশি রনী তাকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানায়।

পরে শিক্ষিকার আত্মহননের হুমকি ও স্বজনদেও চাপে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল শিক্ষিকাকে নিয়ে নীলফামারীতে বিয়ে করার জন্য যায়। সেখানে জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি সজল কুমারের বাসায় ভুয়া কাজী দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি দেখানো হয়। ওইদিন ফুলসজ্জার রাতে তাকে উপর্যুপরি ধর্ষন করে রনি। বিয়ের পর শিক্ষিকা শ্বশুড় বাড়ি যেতে চাইলে মিথ্যের ফুলছুড়ি ছিটিয়ে দিন পার করেন রনি।

অযুহাত দেন, গত ৬ বছর ধরে জেলা ছাত্র লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের। বিয়ের কথা জানাজানি হলে পদ-পদবী নিয়ে ট্যানা হ্যাছড়া শুরু হবে। সেক্ষেত্রে জেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদকের পদেও বিষয়টি চুরান্ত করতে হবে। এজন্য দরকার পরবে ২০ লাখ টাকা। সেই টাকা কথিত স্ত্রী শিক্ষিকাকে জোগার করার জন্য বলেন। এমনকি নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। বিয়ের বিষয়টি একটি সাজানো নাটক বলেও রনী সাব জানিয়ে দেন। ভূক্তভোগী শিক্ষিার্থী উপায়অন্ত না পেয়ে পুনরায় বিয়ের চাপ দেন রনীকে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে রনী গত চলতি বছরের ৫ জুন শিক্ষিকার কেরানী পাড়ার বাড়িতে আসে। সেখানে রাতভর অবস্থান করে শিক্ষিকার শরীরের সম্পদ লুটে করে। কথা দেয় তাকে স্ত্রীর মর্জাদা দেয়ার।

প্রতারিত শিক্ষিকা একটি অভিযোগপত্র লিখে সম্প্রতি মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদের সাথে দেখা করলে তাকে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়।

শনিবার রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানায় হাজির হয়ে শিক্ষিকা একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে থানার ওসি আব্দুর রশিদ নিউজনাউকে জানিয়েছেন, মামলায় আসামীদের রাজনৈতিক কোন পরিচয় ব্যবহার করা না হলেও বাদী শিক্ষিকা মৌখিকভাবে প্রধান আসামী রনী ও তার তিন সহযোগির রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা জানান। বাদীর নিরাপত্বার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাতেই তাকে নেয়া ভিক্টিম সার্পোট সেন্টারে। কিন্তু সেখানে তিনি নিজেকে অসুস্থবোধ মনে করলে নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে তাকে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়। ধর্ষীতার ন্যায় বিচারের জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রংপুর জেলা ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেহেদী হাসান রনিকে সভাপতি রাকিবুল হাসান কাকনকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা ছাত্র লীগের এক বছর মেয়াদী কমিটি গঠন করা হলেও অবৈধভাবে ৬ বছর ধরে রনি জেলা ছাত্র লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...