বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ভিন্ন আয়োজন

এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ভিন্নধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করলো রাজধানী ঢাকার ‘আল-কাদেরিয়া ক্যাফে’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট। গায়ে হলদে শাড়ি আর খোঁপায় রংবেরংয়ের ফুল গেঁথে বন্ধুদের নিয়ে বসন্ত বরণ আর ভালোবাসা দিবসের আড্ডায় ব্যস্ত যখন সবাই। ঠিক তখনই সমাজের অসহায় এতিম এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পবিত্র কুরআনের হাফেজাদের নিয়ে ভালোবাসা দিবস পালন করেছে রেস্টুরেন্টের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম সুমন। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইসব হাফেজাদের জীবনের একটা বড় স্বপ্ন ছিলো তারা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে জুমার নামাজ পড়ার। গতকাল তাদেরকে নিয়ে জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে রামপুরা আল-কাদেরিয়া ক্যাফে তে এদের সম্মানে নানা আয়োজন করেন ফিরোজ আলম সুমন। তিনি নিজ হাতে খাবারের প্লেট তুলে দেন। পোলাও ভর্তি চাইনিজ আইটেমের খাবার। সেইসাথে এদের সম্মানে কাটা হয় কেক এবং সবশেষে মিষ্টান্ন ভোজের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেন ভুরিভোজের।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইসব অসহায় মেয়েরা এমন খাবার চোখে না দেখতে পারলেও খাবারের গন্ধে প্লেট পাওয়ার পর মুখের কোনে তৃপ্তির হাসি নিয়ে পেট ভরে খান তারা। ফিরোজ আলম সুমন ও তার বন্ধুরা নিলে কেউ পোলাও, কেউ তরকারী আবার কেউ গ্লাসে গ্লাসে পানি ঢালছে। খাবারের ফাঁকে আবার চুপিসারে নানা প্রশংসা করছিলেন শিশুরা এমন আয়োজনের। পেটপুরে খাবার পর ওদের হাসিমাখা মুখের সাথে নিজেদের ক্যামেরায় বন্দি করেন সুমন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এদেরকে ফুল দিতেও ভুল করেননি তিনি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট ফিরোজ আলম সুমন বললেন, ভালোবাসা দিবসে সবাই কতকিছু করে। একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। কিন্তু অসহায় এই এতিম এবং অন্ধ শিশুরা কারো ভালোবাসা পায় না। এদের মনেও স্বপ্ন আছে, এদের মনেও ভালোবাসা আছে, সুতরাং আমি এদের মুখে হাসি ফুটাতে পারলে আত্ম তৃপ্তি পাই। তাই আমি ওদের সাথে ভালোবাসা ভাগাভাগি করতে এই আয়োজন করেছি।

এসময় মানবাধিকার কর্মী নাভিন আনান বলেন, এই শিশুদের কারোই দৃষ্টি শক্তি নাই, সেইসাথে এরা সবাই এতিম, তারা গরিব হওয়ায় ভালো খাবার খেতে পারেনা। ওদের মলিন মুখে এক চিলতে হাসির জন্যই এই উদ্যোগ। এমএ আকরাম মুকুল বলেন, একবেলা খাবার পেয়ে সুবিধা-বঞ্চিত এই শিশুদের কাছে যে ভালোবাসা পাওয়া যায় তা লাখ টাকাতেও মিলবে না। ভালোবাসা দিবসে নানা ভাবে অর্থের অপচয় না করে, সবাই যদি ওদের পাশে দাঁড়ায়, তবেইতো সমাজ এগিয়ে যাবে।

ফিরোজ আলম সুমন সবসময়ই অসহায়, প্রতিবন্ধী, পথ-শিশু, এবং গরীবদের জন্য সেই ২০০৬ সাল থেকে নিলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই থেকে প্রতিবছর ভালোবাসা দিবস, শীত, বন্যা আর ঈদের মতো উৎসবে সাধ্যমতো সাহায্যের হাত নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।

নিউজনাউ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ