Banner Before Header

বেওয়ারিশ

সামিউল মাশুক এন্টনী

“অই পোলা৷ চা দে”
“আই, টেবিল মুছ!”
“পিচ্চি এই দুইটা সিগারেট নিয়া আয়। বেনসন লাল’টা”

সবগুলো প্রশ্নেরই উত্তর, “জ্বে স্যের”!

এভাবেই চলে জীবন “পোলা” টার। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভাতের হোটেল থেকে গ্যারেজের কাজ। আরেকটু বয়স বাড়তে যৌবনে পা দেয় ছেলেটা। হ্যা, গরীবেরও যৌবন আসে তো!

কি বুঝে ছেলেটা ভাবে, একটু গোছানো চাকরি নেয়া দরকার।

একটা গার্ড কোম্পানিতে চাকরি নেয় ছেলেটা। চাকরি শুরুর দিন নতুন ইউনিফর্ম, সাথে বুকের ডান পাশে লেখা “নাম”! মানে কোন নাম লেখা নাই। সম্ভবত ছাপা হয়নাই। কাজে যাওয়ার আগে অন্য একজনের নাম চাপিয়ে চলে গেলো। এক পরিচিতের মাধ্যমে চাকরিটা পাওয়া। কি নাম বলে চাকরি জুটিয়ে দিয়েছে তাও জানেনা।

বেতনের দিন জানলো, ওর নাম “নতুন গার্ড”!

গার্ডের কাজ যেখানে করে, সেখানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা একজনকে ভালো লাগে ছেলেটার। প্রতিদিন দেখে, চোখাচোখি হয়। সুযোগ বুঝে কথা বলে, সম্পর্কের কাছাকাছি কিছু একটা হয়ও। দুইজনই আই ওই শুনছেন, শুনছো দিয়ে কাজ চালিয়ে যায়।

হ্যা, গরীবেরও প্রেম হয় তো!

দিন গড়ায়। কাজ জীবন এদিক ওদিক করে সাধারণ জীবন চলে সামাজিক সিনেমার মাঝখানের আধাঘন্টার মতো। সকালে বাসে করে কাজের যায়গায় যায়। পোষাক বদলে কাজ করে সব মিলিয়ে দুই যায়গায় ষোলো ঘন্টা। এরপর বাড়ী ফেরা।

সেদিনটা ছিলো বেতনের দিন।

যথারীতি বেতন নিয়ে বাড়ী ফিরবে ছেলেটা। হঠাৎই অফিস থেকে উপরমহলের তলব। যেয়ে জানা গেলো তার কাজের যায়গা থেকে একটা মোবাইল পাওয়া যাচ্ছেনা। আর সিসি ক্যামেরায় তাকেই দেখা গেছে অফিসের ভেতরে ঢুকতে, তখন টেবিলে কেউ ছিলোনা মোবাইল ছিলো। ছয় ঘন্টা বাথরুম চেপে এরপর ভেতরে কেউ নেই দেখে যেয়ে বাথরুমের কর্ম সারাই সকল সমস্যার উৎপত্তি, কিন্তু তা চুরিতে যাবে তা কোনভাবেই বোধগম্য হচ্ছিলোনা।

পূর্ণ বেতন কাটার পর নিজের সস্তা মোবাইলটাও জমা দিয়ে বের হয়ে এসে আর কিছুই করার ছিলোনা ছেলেটার৷

ওহ হ্যা, সেই মাসেই চিন্তা ছিলো, ওই যে মেয়েটা, বিয়ের কথা বলবে। হলোনা। এলোমেলো চিন্তা নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশেই একটা বাস এসে চাপা দিয়ে গেলো।

রাস্তায় পরে থাকা ছেলেটা, রক্তাক্ত। পকেট হাতড়ে কোন নাম পাওয়া গেলোনা।

ছেলেটাকে আমাদের দেয়া কোন নাম ছিলোনা!

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.