Banner Before Header

নতুন মেয়াদ শুরু করেছেন এরদোয়ান

সোমবার শপথ নিয়ে আরও পাঁচ বছরের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন মেয়াদ শুরু করেছেন রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান।

তুরস্কের পার্লামেন্ট দপ্তরে শপথ নেওয়ার পর রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক নেতা ও কয়েক হাজার অতিথিদের সামনে ভাষণ দেন এরদোয়ান।

ভাষণে ৬৪ বছর বয়সী এ নেতা বলেন, “আমরা, তুর্কি হিসেবে ও তুরস্কের লোক হিসেবে আজ থেকে নতুনভাবে শুরু করছি। আমরা ওই পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে আসছি যা অতীতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আমাদের দেশের অনেক ক্ষতি করেছে।”

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের জয়ের মধ্য দিয়ে তুরস্কের ক্ষমতার ভারসাম্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

পার্লামেন্ট পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান, উভয় দায়িত্বই পালন করবেন প্রেসিডেন্ট। তিনি পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন, মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করতে পারবেন।

এদিকে একজন প্রেসিডেন্ট,একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ১৬ জন মন্ত্রীর সমন্বয়ে ১৮ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। নতুন এই মন্ত্রীসভার উপর একনজরে চোখ রাখলে দেখা যাবে ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জনই প্রথমবারের মত মন্ত্রী হয়েছেন (ভাইস প্রেসিডেন্টসহ) এবং অধিকাংশই সাবেক আমলা,ব্যবসায়ী, শিক্ষক এবং প্রাইভেট সেক্টর থেকে আসা। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্টও রাজনীতিবীদ নন,আমলা। আগের মন্ত্রীসভা পুনরায় মন্ত্রী হয়েছেন মাত্র চারজন।

এরদোয়ানের নতুন এই মন্ত্রীসভার সদস্যদের প্রোফাইল বিশ্লেষন করলে আরো যে বিষয়টি ফুটে উঠে তা হলো, এদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরে অভিজ্ঞ। কিন্তু অধিকাংশেরই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই কিংবা খুবই কম। এতে যেমন সফল হওয়ার সুযোগ আছে তেমন আছে ঝুঁকিও। প্রেসিডেন্টশিয়াল পদ্ধতি প্রবর্তনে তুরস্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের যে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল তার প্রথম সূচনা হলো মন্ত্রীসভার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে। সামনের দিনগুলোতে আরো হয়তো বড় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.