Banner Before Header

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত, প্রক্টরকে অব্যাহতি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমতআরা ভূঁইয়া ইলা, সহকারী অধ্যাপক নীলা সাহা ও প্রভাষক নুসরাত শারমিন তানিয়াকে দীর্ঘ দিন ধরে মুহাম্মদ রুহুল আমিন বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল। তারই অংশ হিসেবে অশালীন কথাবার্তা, গায়ে হাত দেয়াসহ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণভাবে ছবি তিন শিক্ষিকাকে পাঠাতেন রুহুল আমিন। সহকর্মী বলে দীর্ঘ দিন ধরে যৌন হয়রানির বিষয়টি চেপে আসছিলেন তারা। সংযত হওয়ার জন্য বেশ অনেকবার রুহুল আমিনকে বুঝিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষকের সামনে আবার যৌন হয়রানির স্বীকার হয়ে বিষয়টি আর ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেননি তারা। পরে ওই দিন বিকেলে যৌন হয়রানির স্বীকার তিন শিক্ষিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন তিনি। অপর দিকে মঙ্গলবার বিকেলে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পর আপস মীমাংসার জন্য রাত সাড়ে ১২টায় ইসমতআরা ভূঁইয়া ইলার বাসায় যান প্রক্টর জাহিদুল কবির। যৌন হয়রানির ঘটনায় আপস মীমাংসার চেষ্টা করায় প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হককে প্রধান করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এ কে এম জাকির হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়াকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে রুহুল আমিন আমাকে ও আমার দুই নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করে আসছিল। অনেক সহ্যের পর অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য করায় ইলা ম্যাডামের সাথে আমার ঝগড়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে।
প্রক্টর জাহিদুল কবির বলেন, আপস-মীমাংসার জন্য নয়, আমার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ইলার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ভুল ধারণা পোষণ করে আমাকে দোষারোপ ও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ভিসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির অভিযোগে নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ভিকটিমদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.