Banner Before Header

বরিশালের বাতিশুন্য ‘চার দরজা’

বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ চার সেতুর বয়স এক যুগ পেরিয়ে গেলেও জ্বলছে না সড়ক বাতি।

লাখ-লাখ টাকায় সড়ক বাতি স্থাপন করা হলেও ঠুনকো অজুহাতে আলোকরশ্মির বাইরেই থেকে যাচ্ছে সেতুগুলো। ফলে এসব সেতুতে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় বাড়ে অপরাধী চক্রের।

স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যা নামলেই সেতু এলাকায় ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেতু এলাকা ফাঁকা থাকায় এবং বাতি না জ্বলায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন। মাঝে মধ্যে যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এছাড়া এসব এলাকায় রাতে ছোটখাটো মারামারি, দর্শনার্থীদের যৌন হয়রানি, প্রেমিক যুগলদের জিম্মির পাশাপাশি ভ্রাম্যমান পতিতাদের নিরাপদ আখড়া হয়ে উঠে।

বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে বাড়তি পাওয়া কীর্তনখোলা নদীর ওপর দপদপিয়া পয়েন্টে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, খয়রাবাদ উপ-নদীর উপর খয়রাবাদ সেতু, উজিরপুর-বাবুগঞ্জ উপজেলায় এমএ জলিল সেতু (শিকারপুর) ও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাংগীর সেতু (দোয়ারিকা)।

এই চার সেতুকে বলা হয়ে থাকে বরিশালের প্রবেশদ্বার এবং সাগরকন্যা কুয়াকাটার দরজা। কিন্তু সেতু নির্মাণের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর কিয়দাংশ ছাড়া বাকিগুলোতে একদিনের জন্যও জ্বলেনি ল্যাম্পপোস্টের বাতি।

এরমধ্যে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর নিচ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করা হয়েছিল।

এমএ জলিল সেতু (শিকারপুর) বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, সেই তার চুরি হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও বিশেষ কোন অগ্রগতি হয়নি। চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক কেবলও পাওয়া যায়নি। এই সেতুতে রেলিংয়ে বাতি রয়েছে ১৩৪টি। তবে বর্তমানে বৈদ্যুতিক লাইন ল্যাম্পপোস্টের উপর থেকে ঝুলিয়ে বাতি জ্বালালেও রহস্যজনক কারণে অর্ধেক সেতু থেকে যায় অন্ধকারে।

ঝালকাঠি জেলার সীমান্তে অবস্থিত খযরাবাদ সেতু। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পার হয়েই খয়রাবাত সেতু অতিক্রম করতে হয়। এই সেতু নির্মাণের পর থেকে আজও বাতি জ্বলেনি। মাঝখানে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর উদ্যোগ নেয়। এজন্য কোটি টাকা মূল্যের সোলার প্যানেল সেতুর দুই ধারের শতাধিক ল্যাম্পপোস্টে বসানো হয়। কিন্তু সোলার চার্জার ও ব্যাটারি নিম্নমানের কারণে সে যাত্রায়ও আলো দেখেনি দর্শনার্থী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টিরা।

বর্তমানে সোলার প্যানেলগুলো স্থানীয়রা খুলে নিয়ে বাড়িতে ব্যবহার করছে।

এদিকে, উদ্বোধনের পর থেকেই এমএ জলিল সেতু (শিকারপুর) ও (দোয়ারিকা) দুটির রেলিংয়ের সঙ্গে আলো প্রতিফলক কাগজ লাগিয়েই দায়সারা কাজ চালানো হচ্ছে। ওই রঙিন কাগজে আলোর প্রতিফলনই রাতে পরিবহন চালকদের কাছে সেতুর অবস্থান নিশ্চিত করে।

তা দেখেই যানবাহনগুলো অধিক ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়।

বাতির ব্যবস্থা করতে উদ্বোধনের প্রায় এগার বছর পরে এ সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে ওই ল্যাম্পপোস্টগুলো স্থাপনের চার বছর অতিবাহিত হলেও সেতু দুটিতে আজও জ্বলেনি বাতি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ সেতু দুটি নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়। কুয়েতের অর্থ সহায়তায় চীনের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সেতু দুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে।

রাতে অন্ধকারে সেতু পারাপার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার আশংকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ অর্থ স্বল্পতার অজুহাতে সেতু দু’টিতে আলোর ব্যবস্থা করেনি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোলায়মান মুঠোফোনে বলেন, সেতুগুলোতে আলো জ্বালানোর জন্য অতি দ্রুত কাজ শুরু করা হচ্ছে। এসব সেতুতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসে। অগনিত যানবাহন চলাচল করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.