Banner Before Header

মেসি কাঁদে, মেসি কাঁদায়!

স্কুল পড়ুয়া মেয়েটির সকালে উচ্চতর গণিত পরীক্ষা। পড়ালেখা ফেলে টিভির পর্দায় তার চোখ। শুধু কি চোখ পুরো মগ্ন সে। তার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা মুখোমুখি ফ্রান্সের। মা এ নিয়ে রাগারাগি করলে, বাবার প্রশ্রয়ে মেসির ভক্ত মেয়েটির খেলা দেখায় আর কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
সময় যত গড়ায় ছোট্ট মেয়েটির হতাশা তত বাড়ে। ঘরের সাদা আলোকে ছাপিয়ে কালো মেঘ ছেয়ে যেতে থাকে তাকে। কারণ প্রিয় দল যে তখন হারতে বসেছে। রেফারি তার বাশিঁতে শেষ ফু দেয়া পর্যন্ত আশা ছিল মেসি নামক জাঁদুর ছোঁয়ায় আর্জেন্টিনা নির্ধারিত সময়ে সমতা নিয়ে আসবে।
অসাধারণ কিছু না হওয়ায় বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নেয়ার স্বপ্ন , স্বপ্নই থেকে যায় মেসির। যখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মেসি, তখন মেয়েটি টিভি রুম ছেড়ে নিরবে নিজের রুমে চলে যায়।
টপ টপ করে ছোট্ট মেয়েটির চোখের জল পড়তে থাকে। শুধু এই ছোট্ট মেয়েটির চোখের পানি ঝরেছে শনিবার রাতে? হাজার মাইল দুরের মেসির জন্য বাংলাদেশের শহর গ্রামে এমন হাজার হাজার মানুষের নিরবে চোখের পানি ঝরে।
পাগল সমর্থক জমি বেঁেচ কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানায়, বাড়িতে পতাকা টানায়। কেউবা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পুরানো বন্ধুকে ছেটে ফেলে। দুরের কোন দেশের জন্য এমন পাগলামি বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন দেশে মিলবে কি না সন্দেহ আছে।
মেসির জন্য ছোট্ট মেয়ের কান্না ব্রাজিল দলের সমর্থক বাবার জন্য কোন অংশেই কম বেদনার নয়। মেয়েকে সাত্বনা দিতে গিয়ে বাবাকে তখন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব পুরোপুরি ত্যাগ করতে হয়। শুধু কি তাই, মেসির জন্য ব্রাজিল সমর্থক বাবারও চোখ পানিতে টলমল হয়।
অনেকে বলেন ফুটবল মেসির কাছে ঋণী, তাই ফুটবলের কাছে মেসির একটা বিশ্বকাপ পাওনা। ফুটবল তার ঋণ শোধ করতে পারে নাই। এখন কাতার বিশ্বকাপের অপেক্ষা। কোটি টাকার প্রশ্ন, সেই বিশ্বমঞ্চে কি থাকছেন মেসি? সে উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েক বছর।

তবে ভক্তরা তাদের ঋণ শোধ করেছেন ভালোবাসা দিয়ে , চোখের পানি ঝরিয়ে। ম্যারাডোনার দেশের মেসি কী বিশাল শক্তি নিয়ে জন্মেছেন যে, ব্রাজিল সমর্থক বাবাকে তার মেয়ের সাথে মেসির জন্য চোখের জন্য পানি ফেলতে হয়।
ট্রফি দিয়ে মেসিকে মূল্যায়ন করলে তার প্রতিভার প্রতি অবিচার করা হবে। সর্বকালের সেরাদের তালিকায় মেসি ওপরের দিকেই থাকবেন। আর ভালোবাসায় হয়তো সবার শীর্ষে। তাইতো মেসি কাঁদে, মেসি কাঁদায়।

দীপ আজাদের ফুসবুক স্ট্যাটাস। প্রধান বার্তা সম্পাদক, নাগরিক টিভি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.