Banner Before Header

ভালোবাসার বাঁশীওয়ালার স্মরণে!

 

জাহিদ আল আমীন: কিছু মানুষের অপমান, অপবাদ, উপেক্ষার ব্যথা সইতে না পেরে একরাশ অভিমান আর দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
দ্বীপ শহর ভোলার কোন এক নিভৃত পল্লীতে মাটির বিছানায় নিথর দেহে চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন তিনি!
আর কোনদিন সময়ে-অসময়ে ডাকবেন না! আর কোনদিন ঝরঝরে গদ্য-পদ্যও প্রসব করবেন না! আন্দোলনের মঞ্চে, আড্ডায়, গানে, গল্পে আসর মাতিয়ে তুলবেন না! ভুবন ভুলানো প্রিয় হাসিতে চারিপাশ ভরিয়ে তুলবেন না! 
মাত্র ৪২ বছর! অথচ এই স্বল্প আয়ুর জীবনে কতো শত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছেন। এইসব সম্পর্কের সিংহভাগই ছিলো সম্প্রীতির, প্রেমের, ভালবাসার। এই ক্ষুদ্র জীবনে সমাজের নানান ক্যানভাসে, প্রেমের রংতুলিতে কতো শত ভালোবাসার আলপনা এঁকে গেছেন, তার হিসাব রাখাও ভার!
তার অসুস্থতাকে ঘিরে, এই অসময়ে চলে যাওয়া নিয়ে কাছে-দূরের নানাজন নানান দিকের অভিজ্ঞতা, স্মৃতিমালা সামাজিক মাধ্যমে, গণমাধ্যমে লিখছেন, বলেছেন। আবার অনেকেই এখনো নির্বাক, হতবিহবল হয়ে আছেন। এই আকষ্মিক চলে যাওয়াকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেন নি। তাদের মনেও অনেক কথা জমে আছে। সবকিছু নিয়ে একটা স্মারক প্রকাশনার উদ্যোগ নেয়ার এখনই আদর্শ সময়। ভালোবাসা, সে যতোই গভীর হোক, সময়ের ধুলোর নিচে ঢাকা পড়ে গেলে, স্মৃতি খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়।
আগ্রহী, শুভাকাঙ্ক্ষীরা যার যার অবস্থান থেকে সাড়া দিলে কাজটা অবিলম্বে শুরু করা সহজ হবে। গতকাল মধ্যরাতে প্রিয় অনুজ বারেক কায়সার ফোন করে তার এই চিন্তার কথা জানালো। আজও আরো কিছু সুহৃদের কাছে একই ভাবনার কথা জানলাম। এখন শুরু করাই আসল কাজ।
প্রিয় রাজীব মীরের আরো একটি অসিয়ত আমাদের কাধে গুরু দায়িত্ব হিসেবে এসেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং কতিপয় অসুরশক্তি রাজীব মীরের উপর যে মিথ্যা অপবাদের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত করেছিলো, সেই মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। প্রখ্যাত আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক মামলাটির বাদী পক্ষের আইনজ্ঞ হিসেবে লড়ছেন। এই মামলায় আদালতের রায় এবং সত্যোন্মচনের সবটুকুন দায় ও দায়িত্ব এখন আমাদের উপরে এসে বর্তেছে। প্রয়াত রাজীব মীরের সঙ্গে যাদের এক মুহুর্তের জন্য হলেও ভালোবাসার, আত্নার সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিলো, আশা রাখি তারা সবাই এই ন্যায় যুদ্ধে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।

সরশেষে বিভোর!
রাজীব মীরের ১৫ মাস বয়েসী এতীম সন্তান বিভোর! কন্যাকে ঘিরে বাবার দেখা স্বপ্নগুলো যেন ধাপে ধাপে স্পর্শ করতে পারে, আমাদের আদর, স্নেহ এবং ভালোবাসার হাত যেন আজীবন তার মাথার উপরে থাকে!

হে আল্লাহ! আপনি রাজীব মীরের জীবনের সকল ভুল ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত করুন!

আমীন!

বিনীত,
জাহিদ আল আমীন
ফ্রাইবুর্গ, জার্মানি!
২৩ জুলাই, ২০১৮।

Leave A Reply

Your email address will not be published.