Banner Before Header

কয়েকটি কথা : শংকর মৈত্র

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ফারুক-রশিদ চক্র। এই ফারুক রশিদ পরে গঠন করে ফ্রিডম পার্টি। এই পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে, এমপি হয়ে সংসদেও যায়। তাদের পৃষ্টপোষক ছিলেন জেনারেল জিয়া,এরশাদ। এরশাদ জামানায় ফারুক রশিদ প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াতো রাজধানিতে। এদের ভয়ে আওয়ামীলীগের কেউ মাঠে নামতে পারতো না। এরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেছে। তাঁর ধানমন্ডির বাড়িতে গুলি চালিয়েছে। এদের পত্রিকা মিল্লাতে কখনো শেখ হাসিনা লিখতো না,বিকৃত করে হাছিনা লিখতো।এরশাদ সরকারের পৃষ্টপোষকতায় ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসিরা রাজধানি চষে বেড়াতো। তখন মোহাম্মদপুর এলাকায় ফ্রিডম পার্টির নেতা মোস্তাফিজের দাপট। তার ক্যাডারদের ভয়ে কেউ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে পারতো না। ছাত্রলীগের জোসেফের পরিবার তখন রুখে দাঁড়ায়। মোস্তাফিজের ক্যাডাররা হত্যা করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ছাত্রলীগের জোসেফের ভাইকে। পাল্টা প্রতিশোধ নেয় জোসেফ। ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার মোস্তাফিজকে হত্যা করে জোসেফরা। এলাকায় আধিপত্য গড়ে তোলে জোসেফের বাহিনী। বিএনপি ক্ষমতায় এসে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা তৈরী করে ছাত্রলীগের জোসেফকে ঢুকানো হয়। ফ্রিডম পার্টির মোস্তাফিজ হত্যায় জোসেফের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে উচ্চআদালতে হয় যাবজ্জীবন। সেই জোসেফ ১৮ বছরের বেশী কারাভোগ করে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির অনুকম্পায় মুক্তি পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার মেস্তাফিজ যে নাকি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গুলি চালিয়েছিলো তাকে খুনের জন্য জোসেফের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন হলে জোসেফের ভাই হত্যার বিচার হলো না কেনো?জোসেফকে সন্ত্রাসী বলা হলেও মোস্তাফিজকে সন্ত্রাসী বলা হলো না কেনো?ফ্রিডম পার্টির মোস্তাফিজ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতো,চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী করতো। তাকে কেনো ব্যবসায়ি বলা হয়?
( আড্ডায় এক বিশ্লেষকের মতামত,যিনি রাজধানিতে ফ্রিডম পার্টির তান্ডব,জোসেফদের আমলে রাজনীতি খুব কাছ থেকে দেখেছেন)।

শংকর মৈত্র : সিনিয়র বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল নাইন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.