Banner Before Header

এলেন , রিক্সা এবং বাংলাদেশ 

 

এলিজা বিনতে এলাহি, নেদারল্যান্ড প্রবাসী : ক্ষ্রুনেন শহর থেকে হেগে ফেরার সময় খুব তারাহুড়ো করছিলাম বেলা ৪ টার আগে ট্রেন ধরবো বলে , কারণ ৪০% ডিসকাউন্ট পাবার জন্য । প্রায় একরকম দৌঁড়ে পার হচ্ছিলাম মূল মার্কেটের রাস্তা । আচমকা মনে হল শাবানা , জসীম ও নুতনের আঁকা ছবি , চোখের ভুল মনে করে হাঁটতে লাগলাম , কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর মনে হল এত কিছু থাকতে আমাদের নায়ক নায়িকার ছবি দেখবো কেন । কয়েক কদম পিছনে ফিরলাম। না আমি ভুল দেখিনি , আমাদের রিক্সা পেইন্ট , শুধু পেইন্ট না গোটা একটা রিক্সা সাজানো আছে দোকানটিতে , আমি সাথে সাথে ট্রেনের কথা ভুলে গেলাম। দোকানটিতে খেয়াল করে দেখলাম আমাদের গ্রামীণ চেকের কাপড় দিয়ে বানানো কিছু কাপড় ঝুলছে এবং ভারতের কিছু মাস্ক সাজানো আছে। খুব আগ্রহ নিয়ে দোকানে ঢুকে দেখলাম ভিতরে একজন লম্বা ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে, এবং অন্য একজনের সাথে কথা বলছে ডাচ ভাষায়। তারপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম বাইরে সাজানো এই বাহন আপনি কোথায় পেলেন ? সে বলল বাংলাদেশ থেকে এনেছি। সাথে সাথে সেও আমাকে বলল তুমি এই বাহন চিনলে কিভাবে ? আমি বললাম আমি বাংলাদেশী , অমনি সে বলতে লাগলো “ তোমের নাম কি ? এখানে কি করছো ? কবে এসেছ ? এত সুন্দর বাংলা শুনে আমি তো অবিভুত ।

তারপর তার সাথে অনেক কথা হল। জানতে পারলাম উনি আশি/নব্বই দশকে বাংলাদেশে ছিলেন গার্মেন্টসের কাজে , তখন তার এই রিক্সা খুব পছন্দ হয়েছে এবং ফেরার সময় পুরো একটি রিক্সা এনেছেন তার সাথে। শুধু বাংলাদেশ না ভারত , নেপাল থেকে অনেক কিছু সাথে করে এনেছেন এবং এখানে দোকান সাজিয়েছেন। আরও বললেন তার দোকানে ঢুকে ইউরোপিয়ানরা প্রথমে রিক্সার কথা জানতে চায় । আলাপচারিতা শেষে খুব ভালোলাগা নিয়ে ফিরলাম নিজ শহরে । ইন্টারনেট আর স্যাটেলাইটের যুগে আমার দেশের ছোট একটি বাহন এক ডাচকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশ ভালবাসি তোমায় ।

এলিজা বিনতে এলাহি, নেদারল্যান্ড প্রবাসী।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.