Banner Before Header

গানপিয়ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হবার পর আমরা কয়েকজন ছিলাম, যারা ঠিক গান-বাজনাটাকে নেহায়েৎ-ই শখ বা সাবজেক্ট , তাই করতেই হবে সূচক চিন্তাভাবনার মাঝখানে ছিলাম না।

আমরা বন্ধুরা টিএসসি, সমাজবিজ্ঞান চত্ত্বর, কলাভবনের সামনে, জগন্নাথ হল সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলেই বসে গান করতাম। কখনো বড় বড় শিল্পীদের গাওয়া বিখ্যাত গানগুলো কখনো বা আমাদেরই আনাড়ি হাতে তৈয়ার করা একটা নতুন গান করতে করতে কখন বিকাল, কখন সন্ধ্যা বা কখন রাত হচ্ছে — সত্যিই খবর থাকতো না।

কিছুদিন যাওয়ার পর আমরা লক্ষ্য করলাম গান পছন্দ বা গাওয়ার ভিত্তিতে আমাদের কিছু বন্ধু বান্ধবের রূচি প্রায় একই। একটা ব্যান্ড করবার প্রস্তাব এল নিজেদের মধ্যে। দেখা গেল এই প্রস্তাবে আমি রায়হান রহমান রাহিম,আমার বন্ধু অভিষেক রায় অর্চন,রামানুজ চক্রবর্তী অপু এবং অনির্বান পিয়ালকে নিয়ে একটা ব্যান্ডের মত কিছু একটা তৈরি করলাম। যা পুরোপুরি ব্যান্ড হল না, কারন নাম ছিল না আমাদের।

একদিন এক ভোর সকালে আমাদের একটা গান— “আহ্বান” শুনতে শুনতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা,আমাদের অত্যন্ত আপনজন,মহাত্মা খলিলুর রহমান ফয়সাল বললেন — “এই গানটা ঠিক লাগল যেন একটা চিঠির মতন। সুর আছে সে চিঠির। তোরা বইছিস চিঠিটা। তবে, আজ থেকে তোদের নাম হোক গানপিয়ন।”

ব্যস একটা দিন তারিখ ঠিক করে আমরা ফর্ম করে নিলাম আমাদের ব্যান্ড — “গানপিয়ন”।

২৯ শে আগস্ট,২০১৭ থেকে আজ অবধি আমরা একসাথেই আছি। ব্যান্ড তৈরি হল। তখনো বেজিস্ট নেই আমাদের। আমি রাহিম গান গাই। গানগুলো লেখি। অর্চন এবং অপু যথাক্রমে গীটার এবং ড্রামস বাজায়। গানগুলো সুর করে। পার্কাশন নিয়ে অনির্বান অনেকদিন ছিল আমাদের সাথে। অনির্বান চলে যাবার পর আমাদের ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র ঈশতি ইমাম বেজিস্ট হয়ে এবং নটরডেম কলেজ পড়ুয়া সাদমান স্বচ্ছ গীটারিস্ট হিসেবে আমাদের সাথে জয়েন করলে আমরা পূর্ণ লাইনআপ নিয়ে তৈরি হই।

আমরা যেহেতু ক্যাম্পাসেরই ব্যান্ড, সেহেতু ক্যাম্পাসই আমাদের গান বাজনা করবার জায়গা। সেই সুবাদে ফর্ম হবার পর পর গানপিয়ন প্রথম শো করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই। সূর্যসেন বিতর্ক ধারার আয়োজনে মাস্টার দা’ সূর্যসেন হলে আমরা প্রথম গান শুনাই। প্রথম শো’তে এত ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা বেশ অভিভূত হই এবং মনে পড়ে এর সপ্তাহ খানিক এর মধ্যেই আমরা টিএসসিতে গান শোনানোর আমন্ত্রণ পাই।

সেদিন সঞ্জীব চৌধুরী এবং জন লেননের গ্রাফিতির সাথে দাঁড়িয়ে গানপিয়ন যখন গাইছিল তখন শ্রোতাদের সমর্থন, মুগ্ধতা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল — “গান গাইতে আসাটা কেবল যে একটা আনন্দ থেকেই তা কিন্তু নয়, কত কত দায়িত্ববোধও জন্মে যায়। আমরা ক্রমেই যেন ধীরে ধীরে সে স্তরটিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।”

তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও আমরা গান শুনিয়ে এসেছি।

এটিএন নিউজে তারুন্যের প্লাটফর্মখ্যাত “ইয়ংনাইট” অনুষ্ঠানে আমাদের গিয়ে গান শোনানোর সুযোগ ঘটেছে। আমরা গানকে কোন ছকবদ্ধ কিছু ভাবিনা। ধারা বা কোন নির্দিষ্ট রকমকে প্রায়োরিটি দিয়ে আমরা গান করিনা। আমাদের কাছে আমরা যে রকম সুর বা কথায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি সে রকমটাকেই গান বানিয়ে আনন্দ করে গাই। গান করতেই আমরা যেহেতু সবচেয়ে বেশি সাবলীল,তাই গানই আমাদের একমাত্র ভালবাসা।

নতুন গান তৈরি করছি, কিছু গানকে স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। মনে প্রাণে এখনো বিশ্বাস করি আমাদের আরো শিখতে হবে। সঙ্গীতের মূল আবেদনটা বোঝার জন্য আরো চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যেতে হবে। সে পর্যন্ত এবং তারপর পর্যন্ত সবাই একসাথে “গানপিয়ন” নিয়ে থাকতে চাই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.